ডেঙ্গুর চাপে ভেঙে পড়ছে সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থা

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চাপে চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়ার দশা ঢাকার বড় বড় সরকারি হাসপাতালগুলোর। সামর্থ্যের দ্বিগুণ রোগী ভর্তি রাখতে হচ্ছে, যার ফলে মুমূর্ষু রোগীদের উপযুক্ত সেবাও ব্যাহত হচ্ছে। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রামে জনস্বাস্থ্য কাঠামো থাকলেও নেই জনবল- ফলে ঢাকাই সবার ভরসা। আবার ঢাকায় থানা বা উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যের কোনো অবকাঠামো নেই। বেসরকারি হাসপাতালে যাবার সামর্থ্যহীনদের চাপ সামলাতে হচ্ছে ঢাকার সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালগুলোকে। 

মানিকগঞ্জের পঞ্চাশোর্ধ্ব এক ব্যক্তি নিজ এলাকায় উপযুক্ত চিকিৎসা না পেয়ে এসেছেন ঢাকা মেডিক্যালে। রোগ সনাক্ত শেষে ছোট একটা অপারেশনও হয় এখানে। কিন্তু তারপর আর বেড পাননি, থাকছেন হাসপাতালের করিডোরে মাদুর পেতে। 

একদিন আগেও বেসরকারি হাসপাতালের লাইফ সাপোর্টে থাকা আরেক কিশোরের অবস্থা এতটাই জটিল যে, কোনো হাসপাতালেই আর জায়গা মেলেনি। ফিরিয়ে দেয়নি কেবল ঢাকা মেডিক্যাল। এখন করিডোরেই অপেক্ষা একটা আইসিইউর। 

ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার পর থেকে ধারণক্ষমতা আর সামর্থ্যের দ্বিগুণ রোগী থাকছে রাজধানীর সরকারি হাসপাতালগুলোতে। ঢাকার বাইরের রোগীর চাপও কম নয়। 

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক বলেন, হাসপাতালে সাধারণ অবস্থায় ৬০০ বেডের জায়গায় এক হাজারের বেশি রোগী থাকে। আর ডেঙ্গুর মৌসুমে এখন শুধু ডেঙ্গু রোগীই আছেন ৩৮০ জন। 

দেশের সর্বোচ্চ এসব চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো কেবল জরুরি রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসার দেবার জন্য প্রতিষ্ঠিত। ঢাকার বাইরের জনস্বাস্থ্য কাঠামোটাও তেমনিভাবে তৈরি। কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে ধাপে ধাপে রোগীরা সেবা পাবে জেলা হাসপাতাল কিংবা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

তবে, অবকাঠামো থাকলেও নেই জনবল। ফলাফল ঢাকায় সীমিত কাঠামোতে অসীম সেবা দেয়ার চেষ্টা। শেষটায় সব ধরণের রোগীর চাপে জরুরী রোগীর সুচিকিৎসা না পাওয়া। 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন বলেন, বাংলাদেশে সার্ভিস খুবই অগোছালো। ব্যক্তিগত মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান হওয়া উচিত সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার অংশীদার। সরকার প্রয়োজনে তাদের কাছ থেকে স্বাস্থ্যসেবা কিনে নেবে। সেটা তো নেই-ই, ঢাকা বা বড় বড় শহরে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা একেবারেই নেই। 

তার মতে, ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রাথমিক হাসপাতাল বা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মতো ব্যবস্থা থাকলে বড় বড় মেডিক্যালে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও টারশিয়ারি সেবার জন্য যে ভিড় হচ্ছে তা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। 

গেলো অক্টোবরের মতো এবারো যদি ডেঙ্গুর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকে তবে সরকারি হাসপাতালগুলো কতটা চাপ সামলাতে পারবে তা নিয়ে প্রশ্ন আছে সংশ্লিষ্টদের। যদিও স্বাস্থ্য প্রশাসনের একটাই কথা- পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

আরও পড়ুন: তুরাগ পাড়ে জেলেপল্লীতে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা

রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দুই হাজার ৯০৫ জন। এর মধ্যে ঢাকা শহরে এক হাজার ৪২ জন এবং ঢাকার বাইরে এক হাজার ৮৬৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এসময় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে সাতজন ঢাকা শহরের এবং চারজন ঢাকার বাইরের। 


একাত্তর/এসজে