চলমান বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই বেড়ে চলেছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। নবজাতক থেকে ১৫ বছরের শিশু ডেঙ্গু রোগী নিয়ে বেশি বিপাকে তারা। শিশুদের ডেঙ্গু চিকিৎসা সঠিক ভাবে না হলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎকরা।
সরেজমিনে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল জরুরি বিভাগে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জ্বরের উপসর্গ নিয়ে রোগী আসছে। নবজাতক থেকে ১৪ বছরের শিশুদের হার বেশি। এই শিশুদের দেহে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ নানা মশাবাহিত রোগের জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ছাড়াও মহাখালী কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল, কুর্মিটোলা হাসপাতাল সহ সকল জেনারেল হাসপাতালেও এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে।
সবশেষ পরিসংখ্যান বলছে, শেষ ২৪ ঘণ্টায় নবজাতক থেকে ১৫ বছরের মধ্যে অন্তত ৮০ জন শিশু ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১৫ বছর পর্যন্ত ডেঙ্গু পজিটিভ হয়েছে ৮ হাজারের বেশি শিশু। এরই মধ্যে এই ডেঙ্গু রাজধানীর সীমানা পেরিয়ে পৌঁছে গেছে চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল বিভাগে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে রোগীরা আসছে হাসপাতালে।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল শিশু ডেঙ্গু ওযার্ড প্রধান ডা: জাফর ইকবাল বলছেন, ডেঙ্গুতে সাধারণত আগে জ্বর আসে। শিশুর শরীর দুর্বল হয়ে যায়, খেতে পারে না ও শরীর-হাত-পা ব্যথা করে। ডেঙ্গু হলে শুরুতেই ঠান্ডা-সর্দি-কাশি থাকে না। তাই এ রোগে জ্বরের তাপমাত্রা সাধারণত ১০১ থেকে ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট হতে পারে। জ্বর ১০০-এর নিচে থাকা অবস্থায়ও অনেক শিশুর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।
তাই, এখন কারো জ্বর হলেই প্রথমে ডেঙ্গু পরীক্ষার পরামর্শ দিয়েছেন এই চিকিৎসক। তিনি বলেন, যত দ্রুত রোগ শনাক্ত করা যায়, ততোই রোগীর ঝুঁকি কম হবে।