দেশের সব জেলায় অন্তত জরুরি ও জটিল (ক্রিটিক্যাল) চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার আহবান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেছেন, বড়ো বড়ো হাসপাতাল ছাড়া ক্রিটিক্যাল চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই সেবা না পেয়ে অনেক মুমূর্ষু রোগী মারা যাচ্ছেন। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো মানুষ জরুরি ও ক্রিটিক্যাল সেবার অভাবে মারা না যায়, সে লক্ষ্যে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ সোসাইটি অব ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন আয়োজিত জাতীয় কনফারেন্সে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের চিকিৎসকসহ সরকারের দুই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের মধ্যমণি ডা. জুবাইদা রহমান গ্রামীণ ও সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সঙ্কট তুলে ধরে বলেন, সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে এগোলে এবং সবাই একসঙ্গে সহায়তা করলে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব। আমাদের আরও বেশি ট্রেনিং ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের প্রয়োজন। তাহলেই আমরা এই সঙ্কট সামাল দিতে পারবো। তিনি সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে চিকিৎসকদেরও মানবিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহবান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, বিএনপি সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে স্বাস্থ্যখাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে। এবারের বাজেট ৫৬ বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজেট। ঝুঁকিপূর্ণ রোগ সেবার ওষুধ ও প্রযুক্তি এখন উন্নত হচ্ছে।
তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করে বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সরকার চিকিৎসা বিভাগে বিভিন্ন ধরনের উচ্চতর কোর্সের ব্যবস্থা করেছিলো। তখন অনেকে দ্বিমুখী আচরণ করলেও আজ সেই ব্যবস্থার দৌলতেই ১৮০ থেকে ২০০ মিলিয়ন মানুষকে সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। চিকিৎসায় আস্থা ফিরিয়ে আনতে আবার কোর্স সিস্টেম, কারিকুলাম ও গবেষণা বাড়াতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন চিকিৎসকদের মন-মানসিকতা পরিবর্তন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের ওপর জোর দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একদিন বলেছিলেন চেয়ারটা খুব গরম। তিনি শুধু নিজের চেয়ার নয়, সব প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তির চেয়ারের দায়িত্বশীলতাকে ইঙ্গিত করেছিলেন। চিকিৎসকদের মধ্যে রোগীদের প্রতি জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে হাজার কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ দিলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না।
টয়লেট সংস্কারের জন্য চিকিৎসকদের ৭০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প চাওয়ার মানসিকতার সমালোচনা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকরা দায়িত্বসচেতন না হলে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিয়েও কোনো লাভ হবে না। সৃষ্টিকর্তার পর মানুষ সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করে ডাক্তারকে। তাই ডাক্তারদের সুন্দর ব্যবহার ও মানসিকভাবে উন্নত হতে হবে।
চিকিৎসকদের সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তার বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঘোষণা দেন, জেলা পর্যায়ে চিকিৎসকদের নিরাপত্তার জন্য আনসার বাহিনীর ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া প্রতি জেলায় বিদ্যমান ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ১০০ শয্যায় রূপান্তর করা হবে এবং চীনের সহায়তায় বিভিন্ন এলাকায় আরও বেশ কয়েকটি হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। সাধারণ মানুষ যাতে চিকিৎসায় হতাশা প্রকাশ না করে, সেটিই সরকারের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।