দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটছে। ভাইরাসের মোট চারটি ধরনের (সেরোটাইপ) মধ্যে এবার মূলত ডেন-৩ এবং ডেন-২ এর মিশ্র উপস্থিতি বা সহ-অবস্থান দেখা গেছে সংক্রমিতদের শরীরে। সরকারি রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইসিডিআর) তথ্য অনুযায়ী, এই দুটি ধরণ তুলনামূলকভাবে বেশি আক্রমণাত্মক এবং এগুলোর কারণে মৃত্যুঝুঁকিও অনেক বেশি। ফলে দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের পাশাপাশি মৃত্যুহার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেন-৩ এবং ডেন-২ সেরোটাইপে আক্রান্ত হলে রোগীর অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এর ফলে শিশু এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তারা দ্রুত কাবু হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে কোনো শিশু যদি এর আগেও কখনো ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে থাকে, তবে তার শারীরিক জটিলতা এবার অনেক বেশি হচ্ছে। দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হলে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং আক্রান্ত শিশু সহজেই মারাত্মক রূপ ধারণ করে।
রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালসহ দেশের বড় বড় হাসপাতালগুলোর ডেঙ্গু ওয়ার্ডে এখন উপচে পড়া ভিড়। প্রতিদিন সারাদেশ থেকেই জ্বর ও নানা জটিলতা নিয়ে শিশুরা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। আক্রান্তের সংখ্যা হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ায় শিশুদের চিকিৎসার জন্য শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে; অনেক শিশু সিট না পেয়ে চিকিৎসা না নিয়েই ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছরের জানুয়ারি থেকে চার সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৪০ হাজার ছাড়িয়েছে এবং মৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছেছে ১১৩ জনে।
কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশারের এক জরিপে উঠে এসেছে, শহরাঞ্চলে ডেন-৩ এবং গ্রামীণ এলাকায় ডেন-২ সেরোটাইপের প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে। তাই চিকিৎসকরা রোগীদের সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ডেঙ্গুর ধরণ বা সেরোটাইপ চিহ্নিত করার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছেন।
জ্বর হলেই রক্তের পরীক্ষার পরামর্শ: বর্তমান সময়ে ডেঙ্গুর পাশাপাশি হাম এবং ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রকোপও একযোগে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সাধারণ জ্বর ভেবে ভুল করলে তা মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। যেকোনো ধরনের জ্বর হলেই অবহেলা না করে দ্রুত দুই ধরনের রক্ত পরীক্ষা করার পরমর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। সঠিক সময়ে ডেঙ্গু শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু করা গেলে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।