দেশে দিন দিন বেড়েই চলেছে ডেঙ্গুর তাণ্ডব। প্রাণঘাতী এই এডিস মশাবাহিত জ্বরে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল, নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন হাজারো মানুষ। ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক রূপ নেওয়ায় দেশের চিকিৎসাসেবা খাত ও হাসপাতালগুলোতে রোগীদের চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (রোববার সকাল আটটা থেকে সোমবার সকাল আটটা পর্যন্ত) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে দুই হাজার ৩৬ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি মাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর এই রেকর্ড বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে যে আট জনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দুইজন, দক্ষিণে একজন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজন, চট্টগ্রাম বিভাগ, খুলনা এবং রংপুর বিভাগে একজন করে মারা গেছেন।
একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া দুই হাজার ৩৬ জন নতুন রোগীর মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৩২ জন ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশন এলাকা ব্যতিপূর্বে)। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ৩২৩ জন, খুলনা বিভাগে ২৬৭ জন, বরিশাল বিভাগে ২৫৪ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) ২০৬ জন, দক্ষিণে ১৬৯ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৯৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১৫ জন, রংপুর বিভাগে ৬২ জন এবং সিলেট বিভাগে ১১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
চলতি বছরের এক জানুয়ারি থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার ৭৩০ জনে। এর মধ্যে ৫৯.৭ শতাংশ পুরুষ এবং ৪০.৩ শতাংশ নারী আক্রান্ত হয়েছেন। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট মারা গেছেন ২৩৩ জন। মোট মৃত্যুর মধ্যে ৫২.৬ শতাংশ নারী এবং ৪৭.৪ শতাংশ পুরুষ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। চলতি মাসে এখন পর্যন্ত ৩৯ হাজার ৮৮৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে আগস্ট মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২০ হাজার ৫৩৬ এবং মৃত্যু হয়েছিল ৪৩ জনের।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বমোট পাঁচ হাজার ২৪০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসাসেবা নিয়ে সুস্থ হওয়ার পর চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট ৭০ হাজার ২৫৮ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।