দেশে বিপজ্জনক রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। গত ২৪ ঘণ্টায় মশার কামড়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে, যার ফলে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট প্রাণহানির সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে ২০১ জনে গিয়ে পৌঁছাল। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১,৮৬৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে।
বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, গত একদিনে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের বাইরের জেলাগুলোতে সর্বোচ্চ ৪০৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বিভাগীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী চট্টগ্রাম বিভাগে ৩১৭ জন, খুলনা বিভাগে ২৮০ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ১৭৯ জন, বরিশাল বিভাগে ১৭৮ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ১৭৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
এ ছাড়া রাজশাহী বিভাগে ১৫৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১৩ জন, রংপুর বিভাগে ৫৯ এবং সিলেট বিভাগে আটজন নতুন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে ডেঙ্গুর বিস্তার কেবল রাজধানীতে সীমাবদ্ধ নেই; বরং সারা দেশের প্রতিটি বিভাগেই আশঙ্কাজনকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
চলতি বছরের প্রথম দিন থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৭ হাজার ৩৬৭ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে সিংহভাগ রোগী চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরলেও বর্তমান পরিস্থিতি বেশ জটিল।
এ পর্যন্ত চিকিৎসাসেবা শেষে ৬২ হাজার ১১৭ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসাধীন আছেন আরও এক হাজার ৫৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী।
গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০২৩ সালে দেশে ডেঙ্গুর সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল, যখন বছরজুড়ে রেকর্ড তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন আক্রান্ত হন এবং এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়।
পরবর্তী বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং প্রাণ হারান ৫৭৫ জন। আর সদ্যবিদায়ী ২০২৫ সালে মোট এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি ৪১৩ জনের করুণ মৃত্যু হয়েছিল।
চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের এই পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী মাসগুলোতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।