দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ২৮০ জনের প্রাণহানি ঘটল।
শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল আটটা থেকে শনিবার সকাল আটটা পর্যন্ত) মারা যাওয়া চারজনের মধ্যে দুজন সিলেট বিভাগের এবং দুজন ঢাকা বিভাগের।
তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৫২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া সিলেট বিভাগে ২০৬ জন, চট্টগ্রামে ১১৪, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৮৯, বরিশালে ৭০, খুলনায় ৫৭ এবং রংপুর বিভাগে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। মোট মৃত ১ হাজার ২৮০ জনের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১০৫ জন, আর বাকি ১ হাজার ১৭৫ জন মারা গেছেন হামের উপসর্গ নিয়ে।
বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৯৮৮ জন রোগী এসেছেন। এই সময়ে ৬১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৮৩ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩২৩ জন, চট্টগ্রামে ১৬৩, সিলেটে ১৪২, বরিশালে ৯৭, ময়মনসিংহে ৫২, খুলনায় ৪০ এবং রংপুর ও রাজশাহীতে ৩৩ জন করে রোগী ভর্তি হয়েছেন।
চলতি বছর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৭০২ জনে। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ লাখ ১১ হাজার ৮৬৫ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ লাখ ৩ হাজার ২৫৭ জন। সবমিলিয়ে এ পর্যন্ত ২৪ হাজার ৩৫৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর হিসাব রাখা শুরু করে। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কেবল হাসপাতালে আসা ও ভর্তি হওয়া রোগীদের তথ্যই নথিভুক্ত করে থাকে। বাইরে থাকা বা সব রোগীর হামের পরীক্ষা না হওয়ায় প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।