ডেঙ্গু: নভেম্বরের প্রথম আট দিনেই মৃত্যু ৪২

দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু পরিস্থিতির দিন দিন অবনতি ঘটছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন নতুন ২৩৩ জন রোগী। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪৬২ জনে। এর মধ্যে শুধু চলতি নভেম্বর মাসের প্রথম আট দিনেই প্রাণ হারিয়েছেন ৪২ জন, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। এর আগে অক্টোবর মাসে ১৭৪ জন এবং সেপ্টেম্বর মাসে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শনিবারের বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু নিয়ে কেবল ঢাকা বিভাগেই সর্বোচ্চ ১১২৪ জন বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং মারা গেছেন ২ জন। এ নিয়ে চলতি বছর শুধু ঢাকা বিভাগে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬১ হাজার ৩৯৩ জনে এবং মৃত্যু হয়েছে ২২১ জনের। বর্তমানে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২ হাজার ৭২৮ জন রোগী।

অন্যদিকে, চলতি বছর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয়েছে খুলনা বিভাগে, যেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২২ হাজার ৩৫১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায়ও এই বিভাগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৩২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং চলতি বছর এ বিভাগে মোট ৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

দেশের অন্যান্য বিভাগের চিত্রও উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে ২৭২ জন, বরিশালে ২৩২ জন, রাজশাহীতে ২১৩ জন, রংপুরে ৭৫ জন, ময়মনসিংহে ৭০ জন এবং সিলেটে ১৫ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

চলতি বছর দেশজুড়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মোট সংখ্যা পৌঁছেছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯১৩ জনে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩৮৯ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন মোট ৬ হাজার ৬৩ জন রোগী।

উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর হিসাব সংরক্ষণ শুরু করে। এ যাবৎকালের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল এবং রেকর্ড ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

আর তার আগের বছরগুলোতে মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকলেও চলতি বছরের নভেম্বরের শুরুতেই যেভাবে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে, তাতে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে পরিস্থিতি মোকাবিলায় মশক নিধন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা জরুরি।