ধ্বংস হচ্ছে আক্রান্ত শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা!

দেশে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে হাম এবং হামজনিত উপসর্গের সংক্রমণ। কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না শিশু মৃত্যুর ঊর্ধ্বমুখী চিত্র। পরিস্থিতি এতটাই মারাত্মক আকার ধারণ করেছে যে, রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) এক সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে এক শঙ্কাজাগানো তথ্য। বলা হয়েছে হামে আক্রান্ত প্রতি ১০০ জন শিশুর মধ্যে অন্তত ৭৩ জনের শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

আইইডিসিআর’র গবেষণা অনুযায়ী, হামের জীবাণু শিশুর শরীরে প্রবেশ করার পর আক্রান্ত ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার অতীতের স্মৃতি বা প্রতিরক্ষামূলক ইতিহাস ধ্বংস করে দেয়। ফলে শিশুর শরীর অন্যান্য সাধারণ জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

Ham 02
এর ফলে হামে আক্রান্ত শিশুরা অতি সহজেই নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখ বা কানের সংক্রমণের মতো জটিলতায় ভুগছে এবং এসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেই মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ছে। ইতিমধ্যেই হামে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ১৯ জনে পৌঁছেছে, যার মধ্যে ৯৫ শতাংশ শিশুর বয়স তিন বছরের নিচে।

গুরুতর আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে হাসপাতালগুলোতেও চলছে আইসিইউ সংকট। মহাখালী ডিএনসিসি হাসপাতালের আইসিইউ সেন্টারের বাইরে উদ্বিগ্ন বাবা-মায়েদের দিন কাটছে আশঙ্কায়। হাসপাতালটিতে থাকা দেশের সর্বোচ্চ ৫৪টি আইসিইউ বেডের মধ্যে বর্তমানে ৪৮টিতেই হামে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত শিশুরা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেশিরভাগ মৃত্যুই ঘটছে আইসিইউতে।

Ham 01
সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আরিফ হাসান এ বিষয়ে বলেন, ৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে হাম পরবর্তী সঠিক চিকিৎসা এবং নিবিড় যত্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই সময়টায় সঠিক চিকিৎসার ওপরই মূলত নির্ভর করে শিশুটির বেঁচে থাকা।

আইইডিসিআর চিকিৎসকরা জোর দিয়ে সতর্ক করেছেন যে, হামের হাত থেকে শিশুদের বাঁচাতে যথাসময়ে টিকা দান অপরিহার্য। যেসব শিশু নিয়ম মেনে টিকা নিয়েছে, হামের ভাইরাস তাদের শরীরের প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে পারে না এবং জটিল প্রতিক্রিয়া থেকে রক্ষা পায়।