এখন পর্যন্ত ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের কোনো কেস শনাক্ত না হলেও এরই মধ্যে ভারতের ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশ। রোববার (২৮ নভেম্বর) ওমিক্রন রোধে ভারত সরকারের জারি করা নতুন নির্দেশনায় এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।
নির্দেশনায় বলা হয়, ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভূক্ত দেশগুলোতে ভ্রমণের বিষয়ে কড়াকড়ি শর্ত আরোপ করবে দেশটি। এছাড়াও ডাবল ডোজ নেওয়াদের জন্যে দেওয়া ছাড়ও বাতিল করা হবে।
এছাড়া ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশগুলো থেকে ভ্রমণকারী অথবা ট্রানজিটগ্রহীতাদের ভারতে পৌঁছানোর পরপরই আরটি-পিসিআর টেস্ট করাতে হবে এবং এর ফলাফল আসা পর্যন্ত বিমানবন্দরেই অপেক্ষা করতে হবে।
ভারতীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় আরও বলা হয়, ভ্রমণকারীদের কেউ করোনা শনাক্ত হলে নির্ধারিত জায়গায় আইসোলেশনে নিয়ে যাওয়া হবে এবং নেগেটিভ শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদের সেখানেই থাকতে হবে।
এক্ষেত্রে ভ্রমণকারী ওমিক্রন বা করোনার অন্য যেকোনো ধরনেই আক্রান্ত হোন না কেন, সবারই আইসোলেশনে যেতে হবে এবং চিকিৎসকের ছাড়পত্র পাওয়ার পরেই কেবল তারা ছাড়া পাবেন।
আরও পড়ুন: ওমিক্রনে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
‘ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশগুলো থেকে যাওয়া ভ্রমণকারীরা করোনা নেগেটিভ শনাক্ত হলেও তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা এবং অষ্টম দিনে করোনা টেস্ট করানো বাধ্যতামূলক। ওই পরীক্ষায় তারা করোনা নেগেটিভ শনাক্ত হলে ভারত সরকারের কোভিড-১৯ হেল্পলাইনে তা জানাতে হবে। এছাড়া, ভ্রমণকারীদের সবশেষ ১৪ দিনের ভ্রমণ বৃত্তান্তও জমা দিতে হবে।
প্রকাশিত ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, বতসোয়ানা, চীন, মরিশাস, নিউজিল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে, সিঙ্গাপুর, হংকং ও ইসরায়েল এই ১১টি দেশ রয়েছে। এছাড়া যুক্তরাজ্যসহ গোটা ইউরোপও এই তালিকার অন্তর্ভূক্ত।
প্রসঙ্গত, গত ৯ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়। এরপরেই অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, বতসোয়ানা, ব্রিটেন, ডেনমার্ক, জার্মানি, হংকং, ইসরায়েল, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স ও কানাডায় করোনার নতুন এই ধরন শনাক্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
করোনার ওমিক্রন ধরনের কারণে আফ্রিকার দেশগুলোর ওপর বিধিনিষেধ জারি করেছে কমপক্ষে ৪৪টি দেশ। জাপান এবং ইসরায়েল সব দেশের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ফলে অন্য দেশের নাগরিকরা এখন এই দুই দেশে প্রবেশ করতে পারবেন না।
একাত্তর/টিএ