ইউরোপ জুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন। তারই জেরে একের পর এক শনাক্তের রেকর্ড ভাঙছে যুক্তরাজ্য। শুক্রবার আবারও সর্বোচ্চ করোনা শনাক্ত হয়েছে দেশটিতে। ব্রিটেনে গত ২৪ ঘণ্টায় এক লাখ ২২ হাজার ১৮৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।
শনিবার (২৫ ডিসেম্বর) করোনাভাইরাসে পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার ও যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে।
ব্রিটিশ সরকারের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, বৃহস্পতিবার দেশটিতে শনাক্ত হয়েছিল এক লাখ ১৯ হাজার ৫১৭ জন। শুক্রবার আরও দুই হাজার রোগী বেড়ে এক লাখ ২২ হাজার ১৮৬ জন আক্রান্ত হন।
এর আগে বুধবার (২২ ডিসেম্বর) প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যে করোনা শনাক্তের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যায়। সেদিন আক্রান্ত হয়েছিলেন এক লাখ ছয় হাজার ১২২ জন মানুষ।
যুক্তরাজ্য এখন ইউরোপের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি। দেশটিতে এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে এক লাখ ৪৭ হাজার ৮৫৭ জন প্রাণ হারিয়েছে।
এদিকে আগের সপ্তাহের তুলনায় গত এক সপ্তাহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ৪৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে সেখানে। এর ফলে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃতের সংখ্যাও অনেক বেড়ে গেছে।
এরইমধ্যে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন বিদ্যুৎ গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে যুক্তরাজ্যে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সবাইকে টিকার বুস্টার ডোজ নিতে আহ্বান জানিয়েছে সরকার।
নতুন বছর ও বড়দিনের পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন নাগরিকদের করোনা বিধিনিষেধ মেনা চলার অনুরোধ জানিয়েছেন।
যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, দেশটিতে এর মধ্যেই ৩০ লাখের বেশি মানুষ বুস্টার ডোজ নিয়েছেন।
এদিকে করোনা ভাইরাসের ওমিক্রন ধরনের জন্য টিকা তৈরির ঘোষণা দিয়েছে টিকা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকা।
আরও পড়ুন: লঞ্চে আগুন: ৩০ জনের জানাজা সম্পন্ন, দাফন পোটখালী গণকবরে
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ইউরোপীয় অঞ্চলের ৫৩টি দেশের মধ্যে কমপক্ষে ৩৮টি দেশে ধরনটি শনাক্ত হয়েছে। করোনার চলমান সংকট সামলাতে বিধিনিষেধ জারি করেছে জার্মানি, ফিনল্যান্ড, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডসসহ কয়েকটি দেশ।
একাত্তর/আরবিএস