করোনা: যুক্তরাষ্ট্রে দেড় মাসে এক লাখ মৃত্যু

করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ধরনের কারণে বিশ্বের অনেক দেশেই কমে আসছে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা। কিন্তু ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। মাত্র দেড় মাসে দেশটিতে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন এক লাখ মানুষ। 

শুক্রবার (৪ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় মৃত্যু নয় লাখ ছাড়িয়েছে।

জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটির বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে জানায়, মাত্র দেড় মাস আগে অর্থাৎ ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় মৃতের সংখ্যা ছিল আট লাখ। অথচ মাত্র দুই মাসেরও কম সময়ে মৃতের সংখ্যা নয় লাখ ছাড়িয়ে গেলো।  

মার্কিন সরকারের পরিসংখ্যান বলছে, করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ধরনের কারণে সংক্রমণ হ্রাস পাওয়া শুরু করলেও বাড়ছে মৃত্যু। বর্তমানে দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার চারশ' মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন।

পরিস্থিতির কথা স্বীকার করে দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের পরিচালক রোশেলি ওয়ালেনস্কি বলেন, দেশের অনেক এলাকায় হাসপাতালে রোগি ভর্তির এখনো অনেক চাপ রয়েছে। এসব এলাকায় আমাদের স্বাস্থ্য সেবার সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন বহু সংখ্যক মানুষ করোনায় মারা যাচ্ছেন। সহজলভ্য হওয়া সত্ত্বেও দেশটির মোট জনগোষ্ঠীর মাত্র ৬৪ শতাংশ মানুষ টিকার সম্পূর্ণ ডোজ নিয়েছেন। 

ব্রাউন ইউনিভার্সিটি স্কুলের ডিন ড: আশিস কে ঝা বলেন, এটি অবিশ্বাস্য রকমের উচ্চ সংখ্যা। আপনি যদি দুই বছর আগে বেশিরভাগ আমেরিকানকে বলতেন যে, এই মহামারী আগামী কয়েক বছরে দেশের নয় লাখ মানুষের মৃত্যুর কারণ হবে, তখন বেশিরভাগ মানুষই এটা বিশ্বাস করতো না। 

আরও পড়ুন: আত্মগোপনকে গুম বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বেশিরভাগ মৃত্যু হয়েছে টিকার অনুমোদন পাওয়ার পরে।

ঝা আরও বলেন, আমরা চিকিৎসা বিজ্ঞানে সফল হয়েছি। কিন্তু আমরা সামাজিক বিজ্ঞানে ব্যর্থ হয়েছি। মানুষকে টিকা দিতে ও বিভ্রান্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়, আমরা তা করতে ব্যর্থ হয়েছি। 

বার্তা সংস্থা এএফপি'র পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৫৭ লাখ মানুষ এ মহামারীর বলি হয়েছেন।


একাত্তর/আরবিএস