ইমরান খানের ওপর পদত্যাগের চাপ বাড়ছে

পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটের আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ওপর পদত্যাগে চাপ বাড়াচ্ছে বিরোধীরা। 

বুধবার (৩০ মার্চ) জোট সরকার ত্যাগের ঘোষণা দিয়েছে তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) গুরুত্বপূরর্ণ অংশীদার মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট পাকিস্তান (এমকিউএমপি)।

সমঝোতায় ব্যর্থ হয়ে জোট ছেড়ে বিরোধীদের সঙ্গে যোগ দেয়ার ঘোষণা দেন এমকিউএমপি'এর জ্যেষ্ঠ নেতা আমিনুল হক। এর ফলে পার্লামেন্টে ক্ষমতাসীন দলের আসন সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৬৪টি। 

অনাস্থা ভোটে জয়ী হওয়ার জন্য ইমরানের প্রয়োজন ৩৪২ আসনের মধ্যে ১৭২ ভোট। আর পিটিআই'র বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা ইমরানকে ত্যাগ করায় বিরোধীদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৭। 

বুধবার রাতে ইমরানের জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেয়ার কথা থাকলেও সেনাবাহিনীর বাধায় তা পারেননি তিনি। 

শুক্রবার (১ এপ্রিল) ইমরানের বিরুদ্ধে পার্লামেন্ট অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। ভোটাভুটি হবে রোববার (২ এপ্রিল)।

২০১৮ সালে নতুন পাকিস্তান গড়ার শপথ নিয়ে ক্ষমতায় আসেন সাবেক তারকা ক্রিকেটার এবং পিটিআই'র চেয়ারম্যান ইমরান খান। সরকার গড়তে নিরষ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও সর্বোচ্চ ১৪৯ আসন পেয়ে জোট সরকার গড়েন তিনি।

২০২৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত পিটিআই নেতৃত্বাধীন সরকারের মেয়াদ। তার আগেই অনাস্থা ভোটে ইমরান খান হেরে গেলে দেশটির সংবিধান অনুযায়ী, পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া না হলেও নির্ধারিত মেয়াদ পর্যন্ত সরকার পরিচালনায় জাতীয় পরিষদের আইনপ্রণেতারা নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করবেন।

প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে পার্লামেন্ট ব্যর্থ হলে জাতীয় পরিষদ ভেঙে দিয়ে সাধারণ নির্বাচনের আয়োজন করা হবে। 

পার্লামেন্টে আনা অনাস্থা ভোটে দেশটিতে এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় নিতে হতে পারে। 

উল্লেখ্য, পাকিস্তানে এর আগে কোনো প্রধানমন্ত্রীই মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি।

একাত্তর/জো