ভারতে ক্যাঙ্গারুর দেখা মেলায় উঠলো নানা প্রশ্ন

সম্প্রতি ভারতের পূর্বাঞ্চলে একটি জঙ্গলে ঘেরা গ্রামের বাসিন্দারা যখন রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় তিনটি বিভ্রান্ত, দুর্বল ও ক্ষুধার্ত প্রাণীকে দেখলেন, তারা নিজেদের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। 

এরকম প্রাণী তারা আগে কোনোদিন দেখেননি। সাথে সাথে পশ্চিমবঙ্গের বন কর্মকর্তাদের খবর দিলে তারা জানালেন ওগুলো অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় প্রাণী ক্যাঙ্গারু, যা ভারতে পাওয়া যায় না। 

ক্যাঙ্গারু তিনটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য একটি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেখানে একটি ক্যাঙ্গারুর মৃত্যু হয়। 

তবে অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই ক্যাঙ্গারুগুলোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কীভাবে সুদূর অস্ট্রেলিয়া থেকে ভারতে এই প্রাণীর আবির্ভাব হলো, বুঝতে পারছিলেন না কেউই। 

ধারণা করা হচ্ছে, পাচারবিরোধী অভিযানের সময় ক্যাঙ্গারুগুলোকে পাচারকারীরা খালি জায়গায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। 

পশ্চিমবঙ্গের চীফ ওয়াইল্ডলাইফ ওয়ার্ডেন দেবল রায় বিবিসিকে বলেন, পাচারকারীরা কিছু বিদেশি প্রাণী পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে এসেছে- এমন তথ্য পাওয়ার পর রাজ্যের সীমান্তে যানবাহন পরীক্ষা করে দেখা শুরু করে তার দল। এরই খবর পেয়ে পাচারকারীরা ক্যাঙ্গারুগুলোকে ফেলে রেখে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

অ্যালেক্স ও জেভিয়ার নামের বাকি দুটি ক্যাঙ্গারু বর্তমানে একটি সাফারি পার্কে রয়েছে। তবে ভারত তাদের প্রাকৃতিক বাসস্থান নয় বলে তাদেরকে বাকি জীবন চিড়িয়াখানার খাঁচার ভেতরেই কাটাতে হবে, বলেন দেবল রায়।  

এদিকে আঞ্চলিক বন্যপ্রাণী নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর উপ-পরিচালক অগ্নি মিত্র বলেন, সম্ভবত  দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কোনো ব্যক্তিগত প্রজনন ফার্ম থেকে ক্যাঙ্গারুগুলো আনা হয়েছিলো। 

তিনি আরও জানান, পাচারকারীরা প্রায়ই মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে মূল্যবান বিদেশি প্রাণী ভারতে পাচার করে থাকে। 

আরও পড়ুন: ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতের পরও অক্ষত টোঙ্গার আগ্নেয়গিরিটি

উল্লেখ্য, ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি মূল্যবান প্রাণীর চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ধরনের প্রাণী পোষা হালসময়ে একটি মর্যাদার ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। 

তবে এসব প্রাণী পাচারকারীদের আইনের আওতায় আনা প্রায় অসম্ভব, কেননা ভারতের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের আওতায় বিদেশি প্রাণী পড়ে না। 

ভারতের পাচারবিরোধী তদন্ত সংস্থার মতে, দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী কেনাবেচায় নিষেধাজ্ঞা থাকায়, পাচারকারীরা এখন বিদেশি প্রাণীর দিকে ঝুঁকছেন, যা বৈশ্বিক পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে। 

অন্যদিকে দেশটির কাস্টমস কর্মকর্তারা বলেন, সঠিক কাগজপত্র না থাকলে বিদেশ থেকে বন্যপ্রাণী আনা ব্যক্তিদের ধরা গেলেও, অরক্ষিত সীমান্ত দিয়ে আসা সব অবৈধ পাচারকারীদের সবসময় আটকানো যায় না। 


একাত্তর/এসজে