দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর পর নিজ সদর দপ্তর জেনেভায় আবারও শুরু হলো বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মন্ত্রী পর্যায়ের ১২তম বৈঠক। সম্মেলন শেষ হবে ১৫ জুন বুধবার।
রোববার উদ্বোধনী সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির মহাপরিচালক এনহোজি আইওয়ালা বলেন, চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ গোটা বিশ্বকে যে সঙ্কটে ফেলেছে তার সমাধান এক বা দুটি দেশের পক্ষে সম্ভব নয়। দেশে দেশে মানুষকে প্রায় দুর্ভিক্ষ অবস্থা থেকে বাঁচাতে হলে ছোট-বড়ো সব দেশের রাজনৈতিক অঙ্গীকার প্রয়োজন, দরকার সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার।
এ সময় সংঘাতের অনিবার্য পরিণতি মনে করিয়ে উন্নত দেশগুলোর একগুয়েমি ত্যাগ করারও আহবান জানিয়েছেন ডব্লিউটিও মহাপরিচালক।
তিনি বলেন, উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো যেন জেদ করে সবাইকে হতাশায় ডুবিয়ে না দেয়। কেননা, দুনিয়া ব্যাপী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এখন বড়ো মাথা ব্যথা।
এনহোজি আইওয়ালা বলেন, এখন নিরাপত্তা ইস্যুতে যুদ্ধ হচ্ছে। এর ওপর আবার সদস্য দেশগুলোর ভেতরে রাজনৈতিক, ভৌগলিক অন্তঃদ্বন্দ্ব, খাদ্য সঙ্কট আছে। আবার প্রতিটি পণ্য চড়া দামে সদস্য দেশগুলোকে কিনতে হচ্ছে। সবমিলিয়ে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাভুক্ত দেশগুলোর সঙ্কটময় অবস্থা চলছে। সম্মেলন পাঁচ বছর পর আবারও, এসব চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে কথা হবে ।
তিনি বলেন, আমরা বলছি সদস্যদেশগুলোর অভ্যন্তরীণ ও রাজনৈতিকভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে। মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে আমাদের অনেক সমস্যা , জলবায়ু, সদস্য দেশগুলোর বাণিজ্য উদারীকরণের সততা, স্বাস্থ্য, বিনিয়োগ, করোনার টিকার মেধাসত্ব এসব নিয়ে আলোচনা হবে। অবাধ বাণিজ্য সুবিধা, শুল্ক ও অশুল্ক বাধা, সবই কম্প্রোমাইজ প্যাকেজ সদস্য দেশগুলেোর জন্য রাখা হবে।
শেষে তিনি বলেন, বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধানের বিষয়ে আমি সতর্কভাবে এই সম্মেলন নিয়ে আশাবাদি।
সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্বল্পোন্নত দেশের লজ্জা থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উঠে গেছে বাংলাদেশ। বাণিজ্য ও বিনিয়োগে কিছু সুবিধা হারানোর শঙ্কার সাথে সাথে পশ্চিমা দেশের বাজারে রপ্তানি সুবিধা, কৃষি বিশেষ করে মৎস্যখাতে ভর্তুকি দেওয়া, উন্নত দেশ থেকে কম খরচে ওষুধ উৎপাদনে সহযোগিতা পাওয়ার অগ্রাধিকারের কথা বলা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলন শেষে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ একাত্তরকে বলেন, এ সম্মেলনে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেড়িয়ে যাওয়ার পর বিশ্ববাজারে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা ধরে রাখতে আগামী ৯ বছরের জন্য অবাধ ও শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা অব্যাহত রাখার আবেদন জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: ইউক্রেনের বড় দুই অস্ক্রভান্ডার গুড়িয়ে দেয়ার দাবি
উল্লেখ্য, করোনার কারণে দুইবার ডব্লিউটিওর দ্বাদশ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক স্থগিত করা হয়। ২০২০ সালের জুন মাসে কাজাখস্তানে এই বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। এরপর ৩০ নভেম্বর থেকে ৩ ডিসেম্বর বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু ইউরোপ মহাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় সঙ্গনিরোধ ও ভ্রমণ বিধিনিষেধ আরোপ করার কারণে তা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সাধারণ পরিষদের সভাপতি ডাইসো কাসতিলো এক বিবৃতিতে জানিয়েছিলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ আবার বেড়ে যাওয়ায় যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে তাতে আমাদের পক্ষে এই অনুষ্ঠান স্থগিত করা ছাড়া গত্যন্তর ছিল না। পরিস্থিতি অনুকূল হলে নতুন করে বৈঠকের তারিখ ঘোষণা করা হবে।
একাত্তর/এসি