ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যাদের ওপর নজর

ব্রিটিশ কনজারভেটিভ পার্টির প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বরিস জনসন। এর ফলে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী ও পার্টি প্রধান কে হবেন তা নির্ধারণ করতে এখন একটি নির্বাচনের আয়োজন করা হবে। 

প্রধানমন্ত্রী হতে হলে প্রার্থীদের প্রথমে প্রয়োজন হবে টরি এমপিদের সমর্থনের। ফাইনাল দুই প্রতিদ্বন্দ্বী এরপর মুখোমুখি হবেন কনজারভেটিভ সদস্যদের ভোট পাওয়ার লড়াইয়ে। 

এ পদের জন্য কারা লড়বেন তা এখন পর্যন্ত জানা না গেলেও, সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ব্রিটেনবাসীর দৃষ্টি রয়েছে বেশ কয়েকজনের দিকে। 

ঋষি সুনাক 

কনজারভেটিভ দলের ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি হিসেবে সুনাককে একসময় সম্ভাবনাময় হিসেবে মনে করা হলেও, স্ত্রীর ট্যাক্স ফাঁকি ও লকডাউন বিধিনিষেধ নিয়ে বিতর্কের পর তার জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে। 

২০১৫ সালে সুনাক যখন এমপি হন, তখন ওয়েস্টমিন্সটারের বাইরে কেউ তার নাম শোনেনি বললেই চলে। তবে ২০২০ নাগাদ তিনি অর্থমন্ত্রীর পদ অর্জন করেন। 

দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই তাকে মহামারির সময়ে অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রাখতে বেশ বেগ পোহাতে হয়। তবে এ কাজে বিরাট অঙ্কের অর্থ ব্যয় করার পর তার জনপ্রিয়তাও বাড়তে থাকে। 

বরিসের পদত্যাগের দাবিতে আরেক মন্ত্রী সাজিদ জাভিদের সাথে একযোগে পদত্যাগ করার ফলেই বরিসের পথ আরও সুগম হয়েছে বলেই ধারণা করছেন অনেকে। 

লিজ ট্রাস

অর্থমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের পর বরিসের প্রতি নিজের সমর্থন জানাতে দেরি করেননি পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাস। এতে বরিস সমর্থকদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। 

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া দ্বিতীয় নারী হিসেবে ট্রাস বেশ কিছু সাফল্যের মুখ দেখেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ছয় বছর পর নাজনিন জাগারি-র‍্যাটক্লিফের মুক্তি এবং রাশিয়া ও রাশিয়ান ধনকুবেরদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ। 

অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক বিষয়ে উদারপন্থী মনোভাবের জন্য কনজারভেটিভ পার্টির সদস্যদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় ২০১০ সালে এমপি নির্বাচিত হওয়া ট্রাস। 

তবে সাধারণ জনগণের মধ্যে তাকে নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। ২০১৫ সালে চিজ আমদানি নিয়ে আবেগঘন বক্তৃতা দেয়ার পর তাকে নিয়ে বেশ ব্যঙ্গবিদ্রূপ হয়। 

তবে এতে তার অগ্রগতি থেমে থাকেনি। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের পর মন্ত্রিত্ব লাভ করেন তিনি। 

সাজিদ জাভিদ

বরিস জনসনকে প্রথম ধাক্কাটা দেন ব্রমসগ্রোভের এমপি সাজিদ জাভিদ। পদত্যাগের সময় বক্তৃতায় তিনি সহকর্মীদের বলেন, 'মূল সমস্যাটা একদম ওপরেই শুরু হয়'। 

এর আগে ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী পদের পদের জন্য লড়েছেন তিনি। সেবার শেষ চারে গিয়ে বরিসকে সমর্থন করতে সরে যান জাভিদ। 

এ সমর্থনের পুরস্কার হিসেবে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেও, ছয় মাস পরই পদত্যাগ করেন তিনি। পরে ২০২১ সালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে মন্ত্রিসভায় ফেরেন তিনি। 

ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও জাতীয় ঋণের ব্যাপারে ব্রিটেনকে বরাবরই সতর্ক করে আসছেন জাভিদ। ২০১০ সালে টরি এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। 

মাইকেল গোভ 

এর আগে দুইবার টরি প্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর পদের জন্য লড়াই করেছেন মাইকেল গোভ। সর্বশেষ ২০১৯ সালে তৃতীয় অবস্থানে থেকে নির্বাচনী লড়াই শেষ করেন তিনি। 

তবে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় তার সবচেয়ে জনপ্রিয় অংশগ্রহণ ছিল ২০১৬ সালের ইইউ গণভোটে, যেখানে ইইউ ছেড়ে যাওয়ার পক্ষে অন্যতম প্রধান নেতা ছিলেন তিনি। 

২০১৯ সালের নির্বাচনে শুরুতে বরিস জনসনকে সমর্থন দিলেও, পরে এ অবস্থান থেকে সরে আসেন গোভ। তার অভিযোগ ছিল, জনসন নেতৃত্ব দিতে বা ভবিষতের জন্য দলকে তৈরি করতে পারবেন না। 

সাবেক এই সাংবাদিক মন্ত্রিসভার দীর্ঘদিনের সদস্য। ২০১০ সালে তিনি শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এরপর থেকে চীফ হুইপ, বিচার বিষয়ক মন্ত্রী, পরিবেশ মন্ত্রী ও সর্বশেষ লেভেলিং আপ বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। 

নাদিম জাহাবী

বর্তমান চ্যান্সেলর নাদিম জাহাবী মহামারির সময়ে ভ্যাকসিন বিষয়ক মিনিস্টারের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করে বেশ বাহবা কুড়িয়েছেন। এর ফলে পরে শিক্ষামন্ত্রীর পদে উন্নীত হন তিনি। 

বুধবার ঋষি সুনাক পদত্যাগ করার পর আরেকধাপ এগিয়ে তাকে চ্যান্সেলরের দায়িত্ব দেন বরিস জনসন। তবে এর ২৪ ঘণ্টার মাথায় তিনি নিজেই বরিসকে পদত্যাগের আহবান জানান। 

সাদ্দাম হোসেন ক্ষমতায় আসার পর ইরাক ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন জাহাবী ও তার পরিবার। 

জেরেমি হান্ট

সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ২০১৯ সালের নির্বাচনে বরিসের কাছে হেরে যাওয়ার পর থেকে ওয়েস্টমিন্সটারে পর্দার আড়াল থেকে প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন। 

কমন্স হেলথ কমিটির প্রধান হিসেবে মহামারির সময় সরকারের নীতির সমালোচনা করে এসেছেন তিনি। 

আরও পড়ুন: বরিসের পতন ত্বরান্বিত করেছে যে পাঁচ কারণ

তবে আবারও নির্বাচনে দাঁড়ালে পার্টি সদস্যরা তার প্রতি তিন বছর আগের তুলনায় ভিন্ন মনোভাব পোষণ করবেন বলেই আশা করবেন হান্ট। ব্রেক্সিট গণভোটের সময় ইইউ'তে থেকে যাওয়ার পক্ষে তার সমর্থন তার বিরুদ্ধে কাজ করেছিলো বলে তখন মন্তব্য করেন তিনি। 

সেনাবাহিনীর অ্যাডমিরালের ছেলে জেরেমি হান্ট ২০১০ সালে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন। 


একাত্তর/এসজে