ইউক্রেন-রাশিয়া সংকট নিয়ে চীনের তিন উদ্বেগ

ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছেন  চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। সেখানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেছেন। এসময় ইউক্রেন সম্পর্কে চীনের তিনটি উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন ওয়াং।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে আলাপে ওয়াং বলেন, প্রথমত স্নায়ুযুদ্ধের মানসিকতা ও গ্রুপ সংঘর্ষ উস্কে দেয়া এবং নতুন স্নায়ুযুদ্ধ সৃষ্টির বিরোধিতা করে চীন। কঠোর ও জটিল চ্যালেঞ্জের সম্মুখীণ বিশ্বে বিচ্ছিন্নতা নয়, বরং ঐক্যের উপর গুরুত্ব দেয় এবং দ্বন্দ্ব নয়, সংলাপ চায় বেইজিং। ইতিহাসের সঠিক পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে শান্তি আলোচনা সমর্থন করে চীন।

তিনি আরও বলে, দ্বিতীয়ত, দ্বৈত মানদণ্ডে চীনের সার্বভৌমত্ব ও ভূভাগের অখন্ডতার ক্ষতির বিরোধিতা করে চীন। কোনো কোনো দেশ ইউক্রেন ইস্যুতে সার্বভৌমত্বের নীতির কথা জোর দিয়ে বলতে গিয়ে তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে বারবার চীনের সার্বভৌমত্ব ও একচীন নীতিকে চ্যালেঞ্জ করছে, এমনকি তাইওয়ান প্রণালীর দু’পাশে উত্তেজনা তৈরি করে আসছে। তা স্পষ্টই দ্বৈত মানদণ্ড। ইউক্রেন ও তাইওয়ানের মধ্যে কোনোভাবেই তুলনা চলে না এবং চীন নিজের কেন্দ্রীয় স্বার্থকে যে কোনো মূল্যে রক্ষা করবে। 

আরও পড়ুন: গুলিবিদ্ধ শিনজো আবে মারা গেছেন

তৃতীয়ত, অন্য দেশের যৌক্তিক উন্নয়নের অধিকারের ক্ষতির বিরোধিতা করে চীন। কোনো কোনো দেশ ইউক্রেন সংকটের অজুহাতে চীন ও অন্য দেশের বিরুদ্ধে একতরফাভাবে অবরোধ ব্যবস্থা আরোপ করেছে, তা অযৌক্তিক ও অবৈধ এবং দেশগুলোর মধ্যে স্বাভাবিক বিনিময় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সাধারণ নিয়মের লঙ্ঘন। পাশাপাশি, ইউক্রেন সংকটকে জটিল ও গুরুতর করছে। তাই নানা পক্ষের উচিত তার বিরোধিতা করা এবং উন্মুক্ত, ন্যায্য ও বৈষম্যহীন আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে তোলা।  


একাত্তর/আরবিএস