প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দখল নেয়া শ্রীলঙ্কার বিক্ষোভকারীরা তাদের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত দখল অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা করেছেন।
রোববার (১০ জুলাই) বিক্ষোভস্থলে এক সংবাদ সম্মেলনে বিক্ষোভের নেতারা এমন পরিকল্পনার কথাই জানিয়েছেন বলে জানায় বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
বিক্ষোভকারীদের একাংশের নেতা রুয়ান্থি ডি চিকারা বলেন, প্রেসিডেন্টকে ও প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে এবং এই সরকারকে অবশ্যই বিদায় নিতে হবে।
শনিবার (১০ এপ্রিল) দেশটির রাজধানী কলম্বোতে গণবিক্ষোভের ডাক দেয় বিক্ষোভকারীরা এবং সারা দেশের মানুষকে সেই বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার আহ্বানও জানান তারা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুক্রবার রাতে কলম্বো জুড়ে কারফিউ জারি করেও গণমানুষের স্রোত থামানো যায়নি। তারা একজোট হয়ে প্রথমে প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন এবং পরে নতুন প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের ব্যক্তিগত বাসভবনে হামলা চালিয়ে দখল করেন।
জানা গেছে, বিক্ষোভকারীদের প্রবেশের আগে অবশ্য উভয় নেতাকেই নিরাপদে তাদের বাসভবন থেকে সরিয়ে নেয়া সম্ভব হয়।
বিক্ষোভকারীদের শান্ত করতে প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিংহে শনিবার দুপুরেই তার পদত্যাগের ইচ্ছার কথা জানান। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা শান্ত না হয়ে উল্টো তার বাসভবন দখল করে আগুন ধরিয়ে দেয়।
পরে রাতের দিকে স্পিকার জানান, প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া গদি ছাড়তে রাজি হয়েছেন এবং বুধবার (১৩ জুলাই) তিনি পদত্যাগ করবেন।
উল্লেখ্য, অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কায় গত কয়েকমাস ধরেই বিক্ষোভ চলমান। দেশের বর্তমান অবস্থার জন্য বিক্ষোভকারীরা সরকারকেই দায়ী করেছেন। এজন্য সরকার পতনের দাবিতে গত মার্চ মাস থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়। মে মাসের শুরুর দিকে বিক্ষোভ জোরালো হয়ে উঠে। বিক্ষোভকারীদের দাবির মুখে পদত্যাগে বাধ্য হন সেই সময়ের প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপেক্ষে। কিন্তু তাতেও বিক্ষোভকারীরা শান্ত হননি। তারা প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপেক্ষের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন।
একাত্তর/জো