শ্রীলঙ্কান প্রেসিডেন্টের রাজকীয় সরকারি বাসভবন এখনো বিক্ষোভকারীদের দখলে। শুধু তাই নয় প্রাসাদের রান্নাঘর থেকে শুরু করে শোবার ঘর সবখানেই তারা আছেন।
প্রাসাদের এ কোণ থেকে ও কোণ পর্যন্ত ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এমনটি করতে গিয়ে তারা প্রেসিডেন্টের বাসভবনের ভেতরে উচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ একটি গোপন সুড়ঙ্গের খোঁজ পেয়েছেন।
বাঙ্কারটি একটি আলমারির পেছনে লুকানো ছিলো। আলমারি খুলতেই হতবাক বিক্ষোভকারীরা। দেয়ালের পরিবর্তে রয়েছে একটি সিঁড়ি ঘর।
সিঁড়িটি সরাসরি মাটির নিচে চলে গেছে। সুড়ঙ্গের সঙ্গে একটি লিফট আছে, যার মাধ্যমে নিচে যাওয়া যায়। আর সিঁড়ি ধরে নামলেও থেমে যেতে হবে এক লোহার দরজার সামনে।
সম্ভবত ওই দরজার ওপারে রয়েছে সুড়ঙ্গ। সেই সুড়ঙ্গ দিয়েই কি তবে পালিয়ে গেছেন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে। তবে সেই ভারি দরজা এখনো খোলা যায়নি।
সরকারি বাসভবন তল্লাশির সময়ই বিক্ষোভকারীরা খুলে ফেলেন নকল ওই আলমারির দরজা। তার পরেই তাদের চোখে পড়ে সেই সিঁড়ি।
শনিবার দুপুরে প্রেসিডেন্টের বাড়িতে বিক্ষোভকারীদের জোর করে ঢুকে পড়ার কিছুক্ষণ আগেই সেখান থেকে পালিয়ে যান গোতাবায়া।
মনে করা হচ্ছে, ওই সুড়ঙ্গ দিয়েই পালিয়ে গিয়েছেন তিনি। দেশটির স্থাপত্যবিদরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের নিচে এ ধরনের সুরঙ্গ পথ নতুন কিছু নয়। বহু দেশেই আছে।
বিদেশি ঋণের ভার ও অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত শ্রীলঙ্কা সরকার আগেই নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করে। গত কয়েকদিন ধরে দেশটিতে নতুন করে বিক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে।
আরও পড়ুন: লঙ্কাতেই আছেন গোতাবায়ে, সই করেছেন পদত্যাগপত্রে
রাজাপাকসে গত শনিবার তার সরকারি বাসভবন থেকে অজ্ঞাত স্থানে সরে যান। এর কিছুক্ষণ পরই বিক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা তার বাসভবন ও অফিস দখল করে নেন।
হাজার হাজার বিক্ষোভকারী ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় কিছু বিক্ষোভকারী প্রেসিডেন্টের পুলে সাঁতার কাটতে দেখা গেছে। তার বাসভবনের বিভিন্ন কক্ষে ছবি তুলতে দেখা গেছে তাদের।
একাত্তর/আরএ