করোনাভাইরাস ও মাংকিপক্সের পর এবার 'মারবার্গ ভাইরাস' নামে আরেক অতিসংক্রামক প্রাণঘাতী ভাইরাসের কথা জানালো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। অন্যদিকে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ঘানাতে এরইমধ্যে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে।
ঘানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মরবার্গ ভাইরাসে আক্রান্ত দুই ব্যক্তি দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ভাইরাসটি অতিসংক্রামক হওয়ায় ওই দুই ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা ৯০ জনের বেশি মানুষকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার আল-জাজিরা'র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মারবার্গ ভাইরাসটি বাদুড়ের শরীর থেকে মানবদেহে সংক্রমিত হয়।
এদিকে ডব্লিউএইচও জানাচ্ছে, এ ভাইরাসে আক্রান্তদের ডায়রিয়া, জ্বর, বমি বমি ভাব এবং রক্তক্ষরণজনিত জ্বর দেখা দেয়। মৃত্যুর হার প্রায় ৮৮%। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি হঠাৎ করে অসুস্থ হয়, সাথে থাকে তীব্র জ্বর ও মাথাব্যথা।
ডব্লিউএইচও আরও জানায়, ভাইরাসটি প্রথমে বাদুড় থেকে মানবদেহে সংক্রমিত হয়। অন্যদিকে আক্রান্ত ব্যক্তির থুতু বা অন্য তরল থেকে ভাইরাসটি অন্যদের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘানার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, সম্ভাব্য প্রাদুর্ভাবের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছে তারা। অবিলম্বে এ বিষয়ে সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নিতে না পারলে, মারবার্গ সহজেই হাত থেকে বেরিয়ে যেতে পারে অর্থাৎ ছড়িয়ে পড়তে পারে। দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ জনসাধারণকে বাদুড়ের বিচরণ এলাকা এড়িয়ে চলতে বলছে। পাশপাশি ঝুঁকি কমাতে সব ধরনের মাংসজাতীয় খাবার ভালোভাবে রান্না করে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
এটি পশ্চিম আফ্রিকার মারবার্গের দ্বিতীয় প্রাদুর্ভাবের ঘটনা। এই অঞ্চলে ভাইরাসের প্রথম কেসটি গত বছর গিনিতে শনাক্ত হয়। আর মারবার্গ ভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ হয়েছিল জার্মানিতে ১৯৬৭ সালে। ওই সময় এ ভাইরাসে সাতজনের মৃত্যু হয়।
মারবার্গ ভাইরাসের রুখতে কোনো অনুমোদিত টিকা নেই। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, আক্রান্ত রোগীকে মুখে বা শিরায় স্যালাইন দিয়ে এবং লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসার মাধ্যমে ভালো করা যেতে পারে।
একাত্তর/আরবিএস