উত্তর কোরিয়া থেকে নিক্ষেপ করা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রথমবারের মতো দক্ষিণ কোরিয়ার জলসীমার কাছে পড়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি দক্ষিণ উপকূলের ৬০ কিলোমিটারেরও (৩৭ মাইল) কম দূরে অবতরণ করে। কোরীয় যুদ্ধের পর এই প্রথম দুই দেশের সমুদ্রসীমায় এ ধরনের ঘটনা ঘটলো।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর বরাতে বুধবার (২ অক্টোবর) এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) জানান, বুধবার সকালে উত্তর কোরিয়া পূর্ব ও পশ্চিম দিকে অন্তত ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এ ঘটনা খুবই অস্বাভাবিক এবং একেবারে অগ্রহণযোগ্য।
এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক নিন্দা জানিয়ে পাল্টা জবাব হিসেবে, দুই দেশের সমুদ্রসীমায় তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া।
দেশটির পরিবহন মন্ত্রক জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পরপরই পূর্ব উপকূলের কিছু অঞ্চলে বাণিজ্যিক বিমান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।
দক্ষিণের একজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, আমরা সকাল ৯টার দিকে সাইরেন শুনতে পাই এবং বিল্ডিংয়ে থাকা আমরা সবাই বেসমেন্টের খালি জায়গায় চলে যাই।
এদিকে এ ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল জাতীয় নিরাপত্তা বৈঠক ডেকেছেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, উত্তর কোরিয়াকে এ 'উস্কানির মূল্য দিতে হবে'। তার মতে, এ ঘটনা 'আঞ্চলিক অনুপ্রবেশের সমতুল্য'।
এরআগে চলতি সপ্তাহে কোরীয় উপদ্বীপের কাছে যৌথ সামরিক মহড়া চালানো বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়াকে সতর্ক করেছিল কিম প্রশাসন। ওই হুমকির মাত্র এক দিন পরই উত্তর কোরিয়া এ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লো।
জাতিসংঘ ও দক্ষিণ কোরিয়ার নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এ বছর রেকর্ডসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, উত্তর কোরিয়ার বুধবারের আচরণ অনেক বছরের মধ্যে সবচেয়ে আক্রমণাত্মক।