ভারত সরকার টিকা রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় বিপদের মুখে পড়েছে বিশ্বের ৯১টি দেশ। এই দেশগুলো ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের অ্যাস্ট্রাজেনেকা (কোভিশিল্ড) ও নোভাভ্যাক্সের টিকার ওপর নির্ভরশীল।
সংকটে পড়া দেশগুলোর বেশিরভাগই আফ্রিকার, যাদের টিকার মজুদ আগে থেকেই ছিল অপ্রতুল। এখন সে মজুদ তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। দেশগুলোতে ডেলটা (ভারতীয়) ভ্যারিয়েন্ট বি.১.৬১৭.২ ও অন্যান্য অতি সংক্রামক ধরণগুলো ছড়িয়ে পড়ায় বেড়েছে এই বিপদ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মুখ্য বিজ্ঞানী ড. সৌম্য স্বামীনাথন এনডিটিভিতে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন।
গেল বছর অ্যাস্ট্রাজেনেকার সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুসারে, সেরাম ইনস্টিটিউট স্বল্প-মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ১০০ কোটি ডোজ টিকা সরবরাহের জন্য দায়বদ্ধ। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২০ সালেই ৪০০ মিলিয়ন ডোজ সরবরাহ করার কথা ছিলো প্রতিষ্ঠানটির। যা আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন জোট গ্যাভির মাধ্যমে সরবরাহ করা হচ্ছিল, যাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে ডব্লিউএইচও'র। চুক্তিতে উল্লেখিত পরিমাণ ডোজ টিকা সরবরাহে ব্যর্থ সেরাম এবং এর ফলে ঝুঁকিতে পড়া দেশগুলোকে কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়নি।
করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে চরমভাবে ব্যর্থ হবার পর টিকা রপ্তানি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। নিজ দেশের জনগণকে অগ্রাধিকার দিতেই ভারতের এমন সিদ্ধান্ত বলে জানা গেছে।
সৌম্য স্বামীনাথনের বক্তব্য অনুযায়ী, ৯১টি দেশ শুধুমাত্র টিকার সরবরাহ ঘাটতির কারণে এই চরম সংকটে পড়েছে। সেরাম থেকে যে পরিমাণ টিকা দেশগুলোকে ইতিমধ্যে দেয়ার কথা ছিল, তাও দেয়া হয়নি।
সৌম্য আরও জানান, দুর্ভাগ্যক্রমে আফ্রিকার বেশিরভাগ দেশ এখন পর্যন্ত তাদের জনসংখ্যার শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশেরও কম মানুষকে টিকা দিতে পেরেছে। এমনকি স্বাস্থ্যসেবা সেক্টরের সব কর্মীকেও টিকা দিতে পারেনি তারা।
হতাশা ব্যক্ত করে স্বামীনাথন বলেন, আমরা যদি সহজলভ্য এই ভ্যাকসিনের এমন অসম বণ্টন অব্যাহত রাখি, তবে ভ্যাকসিন পাওয়া কিছু দেশে জীবনযাত্রা কিছুটা স্বাভাবিকের দিকে ফিরলেও অন্য দেশগুলোতে জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যহত হবে।
উল্লেখ্য, ড. সৌম্য স্বামীনাথন একজন ভারতীয় শিশু বিশেষজ্ঞ এবং ক্লিনিকাল সায়েন্টিস্ট যিনি যক্ষা নিয়ে তার কাজের জন্য সুপরিচিত। ২০১৩ সাল থেকে তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাথে যুক্ত রয়েছেন। তিনি ভারতের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য গবেষণা বিভাগের সচিব এবং বায়োমেডিক্যাল গবেষণা প্রণয়ন, সমন্বয় ও উন্নয়নের জন্য ভারতে শীর্ষস্থানীয় সংস্থা ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ বায়োমেডিক্যাল রিসার্চের মহাপরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন।
একাত্তর/জো