এফটিএক্সের প্রতিষ্ঠাতা স্যাম গ্রেপ্তার

সম্প্রতি দেউলিয়া ঘোষিত ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ এফটিএক্স -এর প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধান স্যাম ব্যাঙ্কম্যান-ফ্রিডকে বাহামা দ্বীপপুঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেশটির এটর্নি জেনারেল।

পুলিশ বলছে, ব্যাংকম্যান-ফ্রিডকে যুক্তরাষ্ট্র এবং বাহামার আইনে ‘আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে’ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত মাসে এফটিএক্স যুক্তরাষ্ট্রে আবেদন জানিয়েছিল তাদের প্রতিষ্ঠানটি দেউলিয়া ঘোষণার জন্য। এই এক্সচেঞ্জ ব্যবহারকারীরা সেখান থেকে তাদের তহবিল তুলে নিতে পারছিল না। এফটিএক্স দেউলিয়া হয়ে যাওয়ায় বহু বিনিয়োগকারী তাদের শত শত কোটি ডলার খুইয়েছেন বলে ধারণা করা হয়।

গত মাসে আদালতে দায়ের করা কাগজপত্র থেকে দেখা যাচ্ছে, ৫০টি বড় ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে এফটিএক্সের দেনার পরিমাণ তিনশ’ কোটি ডলারের বেশি।  

এফটিএক্সকে দেউলিয়া ঘোষণার যে প্রক্রিয়া চলছে, সেটি সম্পন্ন হওয়ার পর লোকজন সেখান থেকে তাদের গচ্ছিত অর্থ কতোটা ফেরত পাবে তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন যে, লোকজন যে পরিমাণ অর্থ জমা রেখেছে, তার সামান্য অংশই হয়তো তারা ফেরত পাবেন।

এফটিএক্স এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে মানুষ বিটকয়েনের মতো ক্রিপটোকারেন্সি সাধারণ মুদ্রা দিয়ে কেনা-বেচা করতে পারতো।

একসময় স্যাম ব্যাংকম্যান-ফ্রিডকে তুলনা করা হতো যুক্তরাষ্ট্রের কিংবদন্তী বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেটের তরুণ সংস্করণ বলে। মাত্র গত অক্টোবর মাসেও  ব্যাংকম্যান-ফ্রিডের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল দেড় হাজার কোটি ডলারের বেশি।

একজন রাজনৈতিক তহবিল-দাতা হিসেবে তিনি ওয়াশিংটন-ডিসিতে বেশ সুপরিচিত হয়ে উঠেছিলেন।

তিনি মূলত ডেমোক্রেটিক পার্টির রাজনৈতিক এবং গোষ্ঠীগুলোকে অর্থ দিতেন। যেসব গোষ্ঠী মহামারি প্রতিরোধ এবং ক্রিপটোকারেন্সীর আইন-কানুন তৈরির জন্য প্রচারণা চালাচ্ছিল, তিনি তাদেরকেও অর্থ যোগাতেন।

বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্যাংকম্যান-ফ্রিড বলেছিলেন, এই প্রতিষ্ঠানে অনেক ভুল হয়েছে। তবে কোন ধরণের অবৈধ তৎপরতায় জড়িত থাকার কথা তিনি অস্বীকার করেন।

আরও পড়ুন: পুতিনের ‘প্রাকৃতিক গ্যাস ইউনিয়ন’ পরিকল্পনায় উজবেক বাগড়া

বিবিসিকে তিনি বলেন, আমি জেনে-শুনে কোন প্রতারণা করিনি, আমি চাইনি এরকম কিছু ঘটুক। তবে আমি নিজেকে যতটা যোগ্য ভাবতাম, ততটা যোগ্য আমি ছিলাম না।

ক্রিপটোকারেন্সীর বাজার এই পুরো বছর ধরেই বেশ অস্থির ছিল, আর বছর শেষে এসে এভাবেই দেউলিয়া হয়ে যায় এফটিএক্স। এবছর কেবল বিটকয়েনেরই দর পড়ে গেছে প্রায় ৬০ শতাংশ। অন্যান্য ক্রিপটোকারেন্সীর দামও অনেক পড়ে গেছে।


একাত্তর/আরএ