ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বন্দুকধারীর গুলিতে কুর্দিশ সম্প্রদায়ের তিনজন নিহত হওয়ার পর দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ সংঘটিত হয়েছে।
শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) বিক্ষোভকারীরা শহরের বিভিন্ন স্থানে জড়ো হয়ে ভাঙচুর চালায় ও গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। এসময় পুলিশ তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে টিয়ারগ্যাস ছোঁড়ে।
বিবিসি জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা প্রথমে প্লেস দে লা রিপাবলিকে জড়ো হয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তবে কী কারণে সংঘর্ষের শুরু হয় তা এখনও স্পষ্ট নয়।
পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ৩২ পুলিশ কর্মকর্তা এবং এক বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১১ জনকে।
এর আগে শুক্রবার প্যারিসের একটি কুর্দিশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে বন্দুকধারীর গুলিতে কুর্দিশ সম্প্রদায়ের তিন সদস্য নিহত হন। হামলার পর সন্দেহভাজন হামলাকারীকে আটক করে পুলিশ।
৬৯ বছর বয়সী সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তি নিজেকে বর্ণবাদী বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাকে একটি মানসিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
জানা গেছে, আটক ব্যক্তি একজন অবসরপ্রাপ্ত ট্রেনচালক। তার বিরুদ্ধে আগেও অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ রয়েছে এবং এই হামলার কয়েকদিন আগেই জামিনে মুক্তি পান তিনি। গত বছর একটি শরণার্থী ক্যাম্পে তলোয়ার নিয়ে হামলার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুন: বড়দিনে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ১০ লাখ মার্কিনী ও কানাডীয়
বার্তাসংস্থা এএফপিকে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিদেশিদের ঘৃণা করার কথা স্বীকার করেছেন ওই ব্যক্তি। তার কাছে একটি বহু-ব্যবহৃত পিস্তল, ২৫টি কার্তুজ ও দুই-তিনটি গুলিভরা ম্যাগাজিন পাওয়া গেছে।
হামলার পরপরই প্যারিসের রাস্তায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন কুর্দিশ সম্প্রদায়ের সদস্যরা। যথাযথ নিরাপত্তার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন তারা।
একাত্তর/এসজে