সাগরে চীনা জাহাজ দেখামাত্র ইন্দোনেশিয়ার রণতরী মোতায়েন

উত্তর নাটুনা সাগরে চীনা কোস্টগার্ডের জাহাজের ওপর নজরদারি করতে একটি রণতরী মোতায়েন করেছে ইন্দোনেশিয়া। সামুদ্রিক সম্পদসমৃদ্ধ ওই অঞ্চলটিকে উভয় দেশ নিজেদের বলে দাবি করে। 

শনিবার (১৪ জানুয়ারি) ইন্দোনেশিয়ার নৌ প্রধান লক্ষমনা মোহাম্মদ আলী এই তথ্য জানিয়েছেন। 

ইন্দোনেশিয়ান ওশান জাস্টিস ইনিশিয়েটিভ জানিয়েছে, জাহাজ ট্র্যাকিং উপাত্ত অনুযায়ী সিসিজি ৫৯০১ জাহাজটি নাটুনা সাগরে, বিশেষ করে টুনা ব্লক গ্যাস ফিল্ড এবং ভিয়েতনামের চিম সাও তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রের কাছাকাছি ৩০ ডিসেম্বর থেকে যাত্রা করছে।

লক্ষমনা মোহাম্মদ আলী জানান, জাহাজটি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি যুদ্ধজাহাজ, সামুদ্রিক টহল বিমান এবং ড্রোন মোতায়েন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, 'চীনা জাহাজটি কোনও সন্দেহজনক কার্যকলাপ পরিচালনা করেনি। তবে আমাদের এটি পর্যবেক্ষণ করতে হবে কারণ এটি কিছু সময়ের জন্য ইন্দোনেশিয়ার একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলে ছিল'।

এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিক মন্তব্যের জন্য জাকার্তায় চীনা দূতাবাসের একজন মুখপাত্রের সাথে যোগাযোগ করা যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। 

ইউনাইটেড নেশনস কনভেনশন অন দ্য ল অফ দ্য সি (ইউএনসিএলওএস) একটি একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের (ইইজেড) মাধ্যমে জাহাজের ন্যাভিগেশনের অধিকার দেয়।

ইন্দোনেশিয়া এবং ভিয়েতনামের মধ্যে একটি ইইজেড চুক্তি এবং নাটুনা সাগরে টুনা গ্যাস ক্ষেত্রের উন্নয়ন কাজের জন্য ইন্দোনেশিয়ার অনুমোদনের পরে এই ঘটনা ঘটলো। টুনা গ্যাস ক্ষেত্রে উৎপাদন শুরু করতে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগের কথা রয়েছে। 

আরও পড়ুন: ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিকের ফাঁসি কার্যকর করলো ইরান

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম দেশটির দাবি, ইউএনসিএলওএস-এর অধীনে দক্ষিণ চীন সাগরের দক্ষিণ প্রান্তটি তার একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল। ২০১৭ সালে এই অঞ্চলটিকে উত্তর নাটুনা সাগর হিসাবে নামকরণ করে তারা।

চীন এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে একে নিজেদের বলে দাবি করলেও, হেগের স্থায়ী সালিশি আদালত এই দাবির কোন আইনি ভিত্তি খুঁজে পায়নি।


একাত্তর/এসজে