কানফ্র্যাঙ্ক রেলস্টেশন এখন পাঁচ তারকা হোটেল

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কালের বহু ঘটনারই সাক্ষী ছিল স্পেনের কানফ্র্যাঙ্ক আন্তর্জতিক রেলওয়ে স্টেশন। যদিও আজ আর সেই স্টেশনের অস্তিত্ব নেই। 

৪৩ বছর বন্ধ থাকার পর তা হোটেলের রূপ নিয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে স্পেনের অ্যারাগন উপত্যকায় দ্বার খুলেছে কানফ্র্যাঙ্কের। 

১৯২৮ সালে কানফ্র্যাঙ্ক স্টেশনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন স্পেনের সম্রাট সপ্তম ফার্দিনান্দ এবং ফরাসি প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট গ্যাস্তোঁ দুম্যাগ। 

স্টেশনটি স্পেনের এলাকাভুক্ত হলেও ফ্রান্সের সীমান্ত ঘেঁষা। ফলে দুই রাষ্ট্রপ্রধানই ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন।


দশকের পর দশক বন্ধ থাকার পর কানফ্র্যাঙ্ককে নতুন করে সাজনোর চেষ্টা শুরু করে স্পেনের বার্সেলো হোটেল গ্রুপ। কানফ্র্যাঙ্কের মেয়র ফার্নান্দো মোরালেস জানান, দীর্ঘ দিন বন্ধ হয়ে পড়ে থাকার পর এর রূপান্তরিত চেহারায় উৎসাহ ছড়িয়ে পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে।

সত্তরের দশকে প্রায় ধ্বংসাবশেষে পরিণত হলেও কানফ্র্যাঙ্কের সৌন্দর্যে তখনও চোখ ফেরানো যেতো না। স্প্যানিয় স্থাপত্যবিদ ফার্নান্দো রামিরেজ তার সব শিল্পসত্তা দিয়ে নকশা করেছিলেন।

অনেকের মতে, কানফ্র্যাঙ্কের পরিত্যক্ত ধ্বংসপ্রায় ভূতুড়ে চেহারাই তাদের কাছে আকর্ষণীয় মনে হত। তবে বর্তমানের অভিজাত কানফ্র্যাঙ্ককে রয়েছে ৪টি স্যুইটসহ ১০০টি ঘর।


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কানফ্র্যাঙ্কের চেহারায় মসৃণতা ছিল না। যদিও ১৯৪২-এ নাৎসিদের দখলে চলে যায় কানফ্র্যাঙ্ক। ১৯৪৪-এর জুন পর্যন্ত নাৎসিদের হাতেই ছিল এটা। সে সময় এই স্টেশন দিয়ে পালানো কঠিন হয়ে পড়ে। বহু গ্রেফতারিরও সাক্ষী থেকেছে স্টেশনটি।

কানফ্র্যাঙ্ককে ঘিরে টান টন সোনা পাচারের জল্পনাও রয়েছে। মেয়র মোরালেসের দাবি করেন, সে সময় এই স্টেশন দিয়ে সোনা এবং দামি ধাতুর পাচার নিয়ন্ত্রণ করতেন জার্মানরা। 

যদিও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের সে সব অন্ধকার দিন আজ অতীত। আজকাল কানফ্র্যাঙ্কের এই হোটেলের টানে সেখান পা রাখছেন অসংখ্য পর্যটকেরা।


একাত্তর/এআর