তুরস্ক ও সিরিয়ায় ভূমিকম্পের পর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধার তৎপরতা বন্ধ ঘোষণা করা হলেও এখনও এখনো মরদেহের খোঁজ চলছে কিছু এলাকায়। দুই দেশে ধসে পড়েছে হাজার হাজার ভবনের নিচে থেকে এখনো মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বিচ্ছিন্নভাবে।
এদিকে, তুরস্কে দক্ষিণাঞ্চলে সোমবার নতুন করে জোড়া ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। সিরিয়া ও তুরস্কে দুই দেশ মিলিয়ে ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা ৪৭ হাজার ছাড়িয়েছে। এই সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছে উদ্ধারকারী দল।
তুরস্কে চরম মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে গত সোমবার আবারও ৬ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে তুরস্কের সীমান্তবর্তী শহর আনতাকিয়া। এতে অন্তত ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ১৪ দিনের মাথায় মঙ্গলবারের ভূমিকম্পের পর ভেঙে পড়েছে আরও নতুন ভবন। এমন অবস্থায় আবারও উদ্ধারকারীদের ব্যস্ততা বেড়েছে।
দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা আফাদ জানায়, নতুন দুই ভূমিকম্পে মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে তিন জন আগের ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে জিনিসপত্র আনতে গিয়ে মারা গেছেন। এরপরেই মানুষের ঘরে ফেরার ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। তবে সতর্কতা উপেক্ষা করেই ঘরে ফিরছে মানুষ।
আনতাকিয়া শহরের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ধসে পড়া ভবনে উদ্ধার তৎপরতা চালাতে অ্যাম্বুলেন্স ও উদ্ধারকারী দলের ব্যস্ততা বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সেখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও ভয় ছড়িয়ে পড়েছে। আদানা শহরের লোকজন স্থানীয় একটি ভলিবল সেন্টারে আশ্রয় নেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্প আঘাত হানার পর সোমবার রাতেই নিরাপদ আশ্রয়ের আশায় ভলিবল সেন্টারটিতে আশ্রয় নেয়। সেদিন ভূমিকম্প আঘাত হানার সঙ্গে সঙ্গেই লোকজন ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ে। আগের ভূমিকম্পের কথা স্মরণ করে সব ছেড়ে বের হয়ে যান তারা।
তুরস্কের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফাহরেতিন কোকা জানান, ভূমিকম্পে নতুন করে ২৯৪ জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৮ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আর সিরিয়ায় ৪৭০ জনের মতো আহত হয়েছেন। তবে এবার মৃত্যুর সংখ্যা কম, তার কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে, আগের বড় ভূমিকম্পে পর হাতায় প্রদেশের অনেক ভবনই ছিল ফাঁকা। বেশিরভাগ মানুষ তাঁবু টানিয়ে বসবাস করছে।
এদিকে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেছেন, এক বছরের মধ্যে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত সমস্ত গ্রাম ও শহরকে পুনর্গঠন করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলোতে ৭০ হাজারের বেশি বাড়ি তৈরি করে তা সুবিধাভোগীদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান তিনি।
নতুন করে ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে সিরিয়াতেও। তুরস্কের দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থা এএফএডি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর ৩২টি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে সেখানে। এর মধ্যে একটির মাত্রা ছিল ৫.৮। শুধু তুরস্ক নয়, পাশের দেশ সিরিয়া, লেবানন ও মিসরেও ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে।
৬ ফেব্রুয়ারি ভোরে তুরস্ক ও সিরিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে দুই দেশে এখন পর্যন্ত ৪৭ হাজারের বেশি মানুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু তুরস্কেই ৪১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ওই ভূমিকম্পের পর থেকে এখন পর্যন্ত তুরস্কে ছয় হাজারের বেশি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে বলে জানিয়েছে এএফএডি।
একাত্তর/এআর