‘মোদি’ পদবি নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের দায়ে দু’বছর জেলের সাজাপ্রাপ্ত রাহুল গান্ধীর সংসদ সদস্যপদ খারিজ করেছেন ভারতীয় লোকসভার স্পিকার ওম প্রকাশ বিড়লা। শুক্রবার (২৪ মার্চ) লোকসভা সচিবালয়ের পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়। খবর: বিবিসি।
মোদি পদবি তুলে আপত্তিকর মন্তব্যের দায়ে বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) গুজরাতের সুরাত জেলা আদালত রাহুলকে দুই বছর জেলের সাজা দেয়। তারই ভিত্তিতে ভারতীয় সংবিধানের ১০২(১)-ই অনুচ্ছেদ এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইন (১৯৫১)-র ৮ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাহুলের সংসদ সদস্যপদ খারিজ করা হয়।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ২০১৯ সালে লোকসভার ভোটের আগে মোদি পদবী নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। তার ওই মন্তব্যের পরেই রাহুলের বক্তব্যের বিরোধীতা করে দায়ের হয় মামলা।
রাহুল গান্ধী দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালার ওয়ানাদের সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি ৩০ দিনের জন্য জামিনে রয়েছেন এবং রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে, নরেন্দ্র মোদি সরকারে বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে শুক্রবার অন্য বিরোধী দলগুলোকে নিয়ে আন্দোলনে নেমেছে কংগ্রেস। শুক্রবার দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে ১২টি বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বাম, জেডি (ইউ), ডিএমকের পাশাপাশি বৈঠকে ছিল অরবিন্দ কেজরীওয়ালের আম আদমি পার্টি (আপ)-ও। এর পরে সংসদ ভবন থেকে মিছিল করে রাষ্ট্রপতি ভবনে যান তারা।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খারগে বলেন, গান্ধী শুক্রবার সংসদে কথা বলার অনুমতি চেয়েছিলেন কিন্তু তা খারিজ করা হয়।
‘যদি এভাবে চলতে থাকে, তাহলে এই দেশে শিগগিরই স্বৈরাচার ও একনায়কত্ব নেমে আসবে’, বলেন তিনি।
২০১৩ সালের সুপ্রিম কোর্টের একটি আদেশে বলা হয়েছে, একজন আইনপ্রণেতা অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে দুই বা তার বেশি বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে তাকে অবিলম্বে সংসদ থেকে অযোগ্য ঘোষণা করা হবে।
সাজা স্থগিত না হওয়া পর্যন্ত বা মামলায় খালাস না হওয়া পর্যন্ত তাকে নির্বাচনে লড়তে দেওয়া হবে না। আগামী বছর ভারতে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।
দলের সিনিয়র নেতা জয়রাম রমেশ আদালতের রায়কে ‘খুব গুরুতর রাজনৈতিক সমস্যা’ বলে অভিহিত করেছেন যা ‘গণতন্ত্রের ভবিষ্যত’কে প্রভাবিত করতে পারে।
আরও পড়ুন: অবৈধ আশ্রয়প্রার্থী ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার চুক্তি
বৃহস্পতিবার এক দলীয় বৈঠকের পরে তিনি বলেন, ‘এটি মোদি সরকারের প্রতিহিংসার রাজনীতি, হুমকির রাজনীতি, ভয় দেখানোর রাজনীতি এবং হয়রানির রাজনীতির একটি বড় উদাহরণ’।
ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) মন্ত্রীরা অবশ্য রায় নিয়ে প্রশ্ন তোলার জন্য গান্ধী ও তার দলের সমালোচনা করেছেন।
একাত্তর/এসজে