স্টর্মির সঙ্গে ফ্যাসাদে জড়ান আর এক রিপাবলিকান

আমেরিকার প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের নারী কেলেংকারির ইতিহাস আনেক লম্বা। সেসব নিয়ে তোলপাড় আর রটনা-ঘটনার সংখ্যাও কম নয়। আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নারী প্রীতি নতুন কিছু নয়। কিন্তু এনিয়ে তাকে খুব বেশি ফ্যাসাদে পড়তে হয়নি। নানাভাবেই পার পেয়েছেন। কিন্তু শেষ রক্ষা আর হলো না। 

২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিক নারীর সম্পর্ক নিয়ে তথ্য আসতে শুরু করে। উঠে আসে একের পর এক নারী চরিত্রের নাম। ট্রাম্প এদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নামটি হলো পর্ন তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলস।

২০০৬ সালে পর্ণ তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান ট্রাম্প। নেভাদার একটি গলফ আসরে স্টর্মির সঙ্গে পরিচয়ের পরপরই তাকে নিশিযাপনের দাওয়াত পাঠান ট্রাম্প। এরপর প্রায় এক বছর পর্ণ তারকার সঙ্গে দৈহিক সম্পর্কে ছিলেন আবাসান মুঘল ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

অভিযোগ উঠেছিলো, তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে মুখ বন্ধ রাখার জন্য বহু টাকা ঘুষও দেওয়া হয়েছিল স্টর্মিকে। সেই অভিযোগেই ট্রাম্পকে আবার অভিযুক্ত করেছে নিউইয়র্কের এক আদালত। যদিও স্টর্মির সঙ্গে সঙ্গমে লিপ্ত হওয়ার কথা অস্বীকারই করেছেন ট্রাম্প।


আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নাম জড়ানোর পর থেকেই পর্ন তারকা স্টর্মিকে নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই বিভিন্ন মহলে। ৪৪ বছর বয়সি স্টর্মির আসল নাম স্টেফানি গ্রেগরি ক্লিফোর্ড। তবে নীল ছবির দুনিয়াতে তিনি পরিচিত স্টর্মি নামেই।

স্টর্মির জন্ম লুইজিয়ানার ব্যাটন রুজে। যদিও বর্তমানে টেক্সাসের বাসিন্দা। স্টর্মির জন্মের চার বছরের মাথায় তাঁর বাবা-মা, শিলা এবং বিল গ্রেগরির বিচ্ছেদ ঘটে। মায়ের কাছেই মানুষ হন তিনি। তার ছোটবেলা ছিলো ভীষণ সংগ্রামে। মুখোমুখি হতে হয় যৌন নিগৃহেরও।

১৭ বছর বয়সে স্টর্মি স্ট্রিপার হিসাবে কাজ করা শুরু করেন। কিছু দিনেই স্ট্রিপার হিসাবে খ্যাতি পান তিনি। আমেরিকার নামীদামি ক্লাব থেকে ডাক পেতে শুরু করেন তিনি। সেখানেই এক পর্ন পরিচালক তাঁর ছবিতে অভিনয় করার সুযোগ দেন।

পর্ণ সিনেমায় অভিনয় শুরু করার পর স্টর্মিকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি। তিনি অসংখ্য পর্ণ বা ট্রিপল এক্স ছবিতে অভিনয় করেছেন। অভিনয়ের জন্য এই জগতের একাধিক পুরস্কারও পেয়েছেন। বেশ কিছু ‘নীল ছবি’ পরিচালনার কাজও করেছেন তিনি।

২০০৩ সালে প্যাট মাইনকে বিয়ে করেন স্টর্মি। প্যাটের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ২০০৭ সালে তিনি মাইকেল মোসিনিকে বিয়ে করেন। সেই বিয়েও টিকেনি বেশিদিন। শুধু তাই নয়, স্বামীর সঙ্গে সহিংস ঘটনায় জড়িয়ে জেলও খাটতে হয়েছিলো স্টর্মিকে। 


এর পর ২০১৫ সালে ব্রেন্ডন মিলারকে বিয়ে করেন তিনি। সে বিয়েও ভেঙে যায়। এর মধ্যে স্টর্মি ২০১৯ সালে নিজেকে উভকামী বলে ঘোষণা করেন। ২০২২ সালে তিনি পর্নতারকা ব্যারেট ব্লেডকে বিয়ে করেন। ক্যাডেন স্টর্মির এক কন্যাসন্তান রয়েছে।

এক টিভি সাক্ষাৎকারে স্টর্মি ডেনিয়েলস খোলাখুলিভাবে কথা বলেছিলেন ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে। তিনি জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচয় তার ক্যারিয়ারকে আরও মজবুত করবে, এমন ধরনের ভাবনা থেকেই তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে সখ্যতা গড়েছিলেন। 

ট্রাম্প তার নিজস্ব টিভি চ্যানেলের একটি রিয়ালিটি শো’তে স্টর্মিকে অংশ নেয়ার প্রস্তাব করেন। আর সেই কারণেই নাকি ট্রাম্পের সঙ্গে নিশিযাপনে রাজি হয়েছিলেন স্টর্মি। পরে ওই রাতেই দু’জনের সম্মতিতে তাঁদের মধ্যে যৌনমিলন হয়।

আরও পড়ুন: জাপানে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ সমাজ থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন

স্টর্মি দাবি করেছেন, প্রথম সাক্ষাতের পর বছর খানেক তাদের সম্পর্ক ছিলো। পরে ২০০৭ সালে জুলাইয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসের বেভারলি হিলসের একটি হোটেলে দেখা করেন তাঁরা। কিন্তু রাত্রিবাস করার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। কারণ, ততদিনে স্টর্মি জেনে গেছেন, তাকে শো’তে নেয়া হচ্ছে না।

তবে ট্রাম্পই প্রথম নন, এর আগেও আরেক এক রিপাবলিকান নেতা স্টর্মি ড্যানিয়েলনের সঙ্গে জড়িয়ে বড় ধরনের ফ্যাসাদে পড়েছিলেন। ২০১০ সালে লুইজিয়ানার সেনেট পদের জন্য রিপাবলিকান নেতা ডেভিড ভিটারের বিরুদ্ধে দাঁড়ান তিনি।

সেই সময় ডেভিডের সঙ্গে এক নারীর একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়ে যায়। সেই ফোনালাপে অর্থের বিনিময়ে নারী সঙ্গে পাওয়ার বিষয়ে আলাপ ছিলো। মনে করা হয়, এই কথোপকথন ফাঁস করার নেপথ্যে হাত ছিলো স্টর্মির। যদিও শেষ পর্যন্ত ভোটে জিতে সেনেট হন ডেভিডই।


একাত্তর/আরবিএস