ভারত মহাসগরের বুকে বিস্ময়ের নাম ‘সোকাত্রা’

ভারত মহাসাগরের বুকে বিস্ময় দ্বীপ সোকোত্রা। এই দ্বীপের প্রাকৃতিক বৈচিত্র শিরোনামে উঠে এসেছে বার বার। গাছের পাতা থেকে শুরু করে ফুল, পাখি, এই দ্বীপের সব কিছুই বিরল। 

শুধু প্রকৃতির বৈচিত্র নয়, সোকোত্রা দ্বীপের রাজনৈতিক তাৎপর্যও গুরুত্বপূর্ণ। ভারত মহাসাগরের বুকে আফ্রিকার কোল ঘেঁষে ছোট্ট দ্বীপ সোকোত্রা। 

ছোট-বড় কয়েকটি দ্বীপ নিয়ে সোকোত্রা দ্বীপপুঞ্জ গড়ে উঠেছে। প্রকৃতির বিচিত্র রূপের কারণে দ্বীপটি গবেষকদের আকর্ষণের কেন্দ্রে।

কিন্তু শুধু প্রকৃতির বৈচিত্র নয়, সোকোত্রা দ্বীপের রাজনৈতিক তাৎপর্যও গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এই দ্বীপের ভূমিকা রয়েছে। দ্বীপটিকে নজরে রেখেছে এশিয়ার বেশ কয়েকটি রাষ্ট্র। আমেরিকার নজরও এড়ায়নি সোকোত্রা।

খাতা কলমে সোকোত্রা ইয়েমেনের অংশ। এই দ্বীপের মূল ভূখণ্ডের দৈর্ঘ্য মাত্র ১৩২ কিলোমিটার। মূলত আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ সোকোত্রায় বাস করেন। তাঁদের ধর্ম ইসলাম। 


মাঝ সমুদ্রের এই দ্বীপ যেন একটি প্রবেশদ্বার। এশিয়া এবং ইউরোপের মাঝে জলপথে বাণিজ্যিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম এই সোকোত্রা। 

সারা বিশ্বের ৩০ শতাংশ বাণিজ্যিক পণ্য এই দ্বীপের উপর দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছয়। সোকোত্রার এই ভৌগোলিক তাৎপর্যের কারণে দ্বীপটিকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ঝাঁপিয়েছে বেশ কয়েকটি দেশ। 

ইরান থেকে শুরু করে কাতার, এমনকি ভারত দ্বীপটির দিকে নজর রেখেছে। তবে সোকোত্রায় আধিপত্যের লড়াইয়ে সবার আগে উঠে আসে সৌদি আরব এবং আরব আমিরাতরে নাম। 

সংযুক্ত আরব আমিরাত সোকোত্রায় নিজেদের একটি বিমানঘাঁটিও তৈরি করে ফেলেছে। ২০১৮ সালের মধ্যে সোকোত্রায় সামরিক প্রাধান্য অনেকখানি বাড়িয়ে ফেলে আরব আমিরাত। 

তারা দ্বীপে নতুন করে রাস্তাঘাট নির্মাণ, স্কুল-কলেজ তৈরি এবং হাসপাতাল গঠনের জন্য অনেক টাকা বিনিয়োগ করে।

আরও পড়ুন: হঠাৎ এত আগুন কেন, তদন্ত হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইয়েমেনের হুথি সরকারের প্রতি সোকোত্রাবাসী বরাবরই ক্ষুব্ধ। অন্যদিকে আরব আমিরাতের যাবতীয় উন্নয়নমূলক কাজ প্রশংসা কুড়িয়েছে সোকোত্রার জনগণের।

অনেকের মতে সৌদির সঙ্গে টেক্কা দিয়ে সোকোত্রায় দ্বিতীয় দুবাই বানাতে চায় আমিরাত। এতে  স্থানীয় প্রশাসনের সায় না থাকলেও জনগণের সমর্থন রয়েছে আরব আমিরাশাহীর সঙ্গেই। 


একাত্তর/আরবিএস