সাগর বাঁচাতে দূষিত নদী, সমুদ্র সৈকত থেকে কুড়ানো প্লাস্টিকের বর্জ্য দিয়ে বানানো হয়েছে ঘর। সেই ঘরের সব আসবাবও ফেলে দেয়া প্লাস্টিক রিসাইকেল করে তৈরি।
ইন্দোনেশিয়ার পরিবেশকর্মী গ্যারি বেনচিগিবের এ উদ্যোগ সাড়া ফেলেছে দেশটিতে। যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও। প্লাস্টিকের বর্জ্য থেকে বানানো হচ্ছে নেকলেস ও চেয়ারের মতো আসবাব।
ইন্দোনেশিয়া ভিত্তিক পরিবেশকর্মী গ্যারি বেনচিগিব। গত দুমাস ধোরে থাকছেন প্লাস্টিকের বর্জ্য দিয়ে তৈরি ১২ বর্গমিটারের ছোট্ট এ ঘরে।
বালির বিভিন্ন দূষিত নদী থেকে ৩৫ হাজার প্লাস্টিকের ব্যাগ কুড়িয়ে রিসাইকেল করে বাড়িটি তৈরি করেন তিনি।
অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা, আসবাবপত্র সবই তৈরি করেছেন প্লাস্টিকের কাপ, ফেলে দেয়া স্ট্র দিয়ে। এখন গ্যারির লক্ষ্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘরহারা মানুষের জন্য, একই উপায়ে ঘর বানানো।
গ্যারি বেনচিগিব বলেন, নদী থেকে সংগ্রহ করা প্লাস্টিক বর্জ্যগুলোকে পুনরায় ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেই। সেগুলো দিয়ে কি বানাতে পারি বাস্তবে তাই দেখা যাচ্ছে।
দু'বছর আগে ২৮ বছর বয়সী গ্যারি ‘সুঙ্গাই ওয়া’ আন্দোলনের মাধ্যমে সাগরে বর্জ্য যাওয়া রোধে জাভা ও বালির আশপাশে থাকা নদী, সৈকত ও অবৈধ ডাস্টবিন থেকে বর্জ্য পরিষ্কার শুরু করেন।
দেশটির পরিবশে ও বন মন্ত্রণালয় বলছে, শুধু ২০২১ সালে ৯১ লাখ সাড়ে ১৫ হাজার টন বর্জ্য ফেলা হয়েছে। গ্যারির উদ্যোগ ইতিমধ্যে আলোড়ন তৈরি করেছে।
বর্জ্য থেকে চেয়ার, টিস্যু বক্সসহ নানারকম আববাস তৈরি করছে পোটাটো হেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানও। বর্জ্য রিসাইকেল করে নানা ডিজাইনের আসবাব তৈরির চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
বর্ষা মৌসুমে জাভা দ্বীপে ভারী বৃষ্টি হওয়ায় বালির অধিকাংশ সৈকত আবর্জনায় ভরে যায়। ২০২২ সালে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর তিন মাসে ৬০০ টন বর্জ্য রেকর্ড করা হয়।
এ অবস্থায় বর্জ্য রিসাইকেলকে সঠিক সিদ্ধান্ত বলেছেন পর্যটকরা। তারা বলেন, বালির জনগণ, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বর্জ্য সংগ্রহ কোরে রিসাইকেলের যে পদক্ষেপ নিয়ে তা সত্যি আশাব্যঞ্জক।
প্লাস্টিক দূষণ সাগরের প্রাণীজগতের অস্তিত্বের জন্য হুমকি তৈরি করেছে। ছোট ছোট প্লাস্টিকের কণা পাওয়া যাচ্ছে খাবারে।
পরিবেশবাদীতের সতর্কতা, ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে মানবজীবন এবং ধরণীর। প্ল্যাস্টিকের বর্জ্য কমাতে ইতিমধ্যে সুপারশপে প্লাস্টিকের ব্যাগের ব্যহার নিষিদ্ধ করেছে বালি কর্তৃপক্ষ।
একাত্তর/এআর