মধ্যপ্রাচ্য বাড়ছে চীনা বলয়, আমেরিকার দিন শেষ!

দীর্ঘ বিরোধে থাকা সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে আবারো কূটনৈতিক সম্পর্ক তৈরি করে বিশ্ব রাজনীতিতে চীন নিজেদের নতুনভাবে উপস্থাপন করেছে। 

দেশটি এখন ফিলিস্তিনেও শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির দূত হিসেবে চীনের ভূমিকাকে এখন আদর্শগত পরিবর্তন বলছেন বিশ্লেষকরা। 

প্রশ্ন উঠেছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কি শেষ হচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্কার হয়ে ওঠবে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। 

মধ্যপ্রাচ্যে চীনের প্রভাব বাড়লেও, অনেক বিশ্লেষকই বলছেন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিস্থাপন করার মতো সক্ষমতা এখনও বেইজিংয়ের হয়নি। 

এর বড় কারণ মিত্র দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির উপস্থিতি। বিশ্লেষকদের মতে, চীন সম্ভবত কোনভাবেই সামরিক প্রভাব চায় না। 

কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেই সুবিধা পেতে চায় দেশটি। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির দূত হতে সুবিধাজনক অবস্থায় আছে চীন। 

সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যকার চুক্তির আগেই, মধ্যপ্র্যাচের দেশগুলোর সাথে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছে চীন। 

সৌদি ও ইরান দুই দেশের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতার মাধ্যমে এ সম্পর্ককে আরও জোরদার করেছে বেইজিং। 

গত ১৭ বছরে মধ্যপ্রাচ্যে চীনের বিনিয়োগ ২৭৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এছাড়া, মিশরের নতুন রাজধানী আর সৌদি আরবের মক্কায় মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলায় সাহায্য করছে দেশটি। 

রাজনীতি বা মানবাধিকার- বহু বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না চীন। ইসরাইলের প্রতিও নেই আলাদা পক্ষপাত। 

ফলে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীন কম বিতর্কিত। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে চাইলেও ওয়াশিংটনের অবস্থান দখল করতে চায় না চীন।

সাংহাই ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ফ্যান হোংদা বলেন, আমার মনে হয় না মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে স্থানচ্যুত করার কোন পরিকল্পনা আছে চীনের। বরং ঐ অঞ্চলের দেশগুলোর সাথে নিজস্ব পদ্ধতিতে সহযোগিতার সম্পর্ক রাখতে চায় চীন। 

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের মতো ক্ষমতার পরিবর্তন বা নির্বাচিত সরকারকে উতখাতের ইতিহাস চীনের নেই। তবে, সাম্প্রতিক সময়ে সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়িয়েছে চীন। 

২০১৭ সালে জিবুতিতে প্রথম সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করে দেশটি। আমিরাতে নৌ ঘাঁটি স্থাপনের কাজও চলছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বিভিন্ন দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে নজর বেইজিংয়ের।

তবে, অনেকের মতে, নিরাপত্তা প্রদানকারীর ভূমিকা নেয়ার অনাগ্রহ দীর্ঘ মেয়াদে আলোচক হিসেবে চীনের অবস্থানকে সীমিত করতে পারে। 

তেহরানের চীন-মধ্যপ্রাচ্য প্রজেক্টের পরিচালক জাকিয়েহ ইয়াজদানশেনাস বলেন, এটা পরিষ্কার নয় সৌদি আরব এবং ইরানকে নিয়ে চীন কিভাবে সামনে এগুবে। চুক্তির পর যে যৌথ বিবৃতি দেয়া হয়েছে তাতে পরিষ্কার করা হয়নি চুক্তির লঙ্ঘন হলে চীন কিভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে। 

তবে, শান্তি নিশ্চিতে চীনকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। একই সাথে দীর্ঘস্থায়ী দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়া থেকেও বিরত থাকতে হবে। 


একাত্তর/এআর