পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি কয়লা খনির মালিকানা নিয়ে দুই উপজাতি গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে ১০ জন।
আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের দারা আদম খেল এলাকায় খনি নিয়ে গত সোমবারের সংঘর্ষটি কয়েক দশকের পুরনো উপজাতীয় শত্রুতার অংশ বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা জাহিদ খান ১৬ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মঙ্গলবার তিনি আল জাজিরাকে বলেছেন, সানি খেল উপজাতির অন্তত ১১ জন সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে এবং আখোরওয়াল উপজাতির পাঁচ সদস্যকে গতকাল রাতে কবর দেওয়া হয়েছে।
তিনি যোগ করেন, সংশ্লিষ্ট উপজাতিরা একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে এবং বিষয়টি সমাধানের জন্য একটি জিরগা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, জিরগা বলতে উপজাতির প্রবীণদের একটি গোষ্ঠীকে বোঝায় যারা উপজাতিদের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং দ্বন্দ্ব সমাধানের জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত। এটি প্রায়শই পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে হয়ে থাকে, যেখানে অধিকাংশ মানুষ জাতিগতভাবে পশতুন।
খান আরও বলেন, উভয়ের মধ্যে এটিই প্রথম সহিংস ঘটনা নয় এবং সমস্যাটি মীমাংসার জন্য অতীতে অসংখ্য জিরগা হয়েছে, তবে তা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।
সানি খেলা উপজাতির সদস্যরা অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এলাকার একটি মহাসড়কে বিক্ষোভ করেছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র আমাকে ক্ষমতায় চায় না: শেখ হাসিনা
স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা উপজাতিদের মধ্যে মধ্যস্থতা করছেন এবং আমরা আশাবাদী যে শীঘ্রই একটি সমাধানে পৌঁছানো হবে বলেও জানান তিনি।
পাকিস্তানের কয়লা খনিগুলোর বেশিরভাগই দেশটির উত্তর-পশ্চিামাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়া ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে অবস্থিত। এসব খনিতে কয়েক লাখ শ্রমিক নিয়মিত কাজ করেন। সরকারি মালিকানার পাশাপাশি বেসরকারি মালিকানাতেও চলে খনি কার্যক্রম।
একাত্তর/আরবিএস