বালেশ্বরে উদ্ধারকাজ শেষ, নিহত বাড়ার আশঙ্কা

ভারতের ওড়িশায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও নিহতের সংখ্যা নিয়ে একেক পক্ষ একেক তথ্য দিচ্ছে।

তবে, অনেকেই গুরুতর আহত হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

শনিবার দুপুরে ভারতীয় রেলের মুখপাত্র অমিতাভ শর্মা বলেন, ‘উদ্ধার অভিযান শেষ, আমরা এখন ক্ষতিগ্রস্ত বগি ও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে রেল চলাচল স্বাভাবিক করার কাজ শুরু করছি’। 

উদ্ধারকাজ চলাকালীন সময়ে এক পর্যায়ে নিহতের সংখ্যা ২৮৮ জন বলে ফায়ার সার্ভিসের ডিজিএম-এর বরাতে জানিয়েছিল কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। তবে উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার পর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা ২৬১ জন। আহত হয়েছেন ৬৫০ জন। 

অন্যদিকে শনিবার ভোর পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ২৩৩ জন ছিল বলে ওড়িশা সরকারকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা পিটিআই। 

উদ্ধারকারীরা বলছেন, বগির ভেতর থেকে এখন আর কোনো আওয়াজ আসছে না। ধারণা করা হচ্ছে বগির নিচে আর কেউ চাপা পড়ে নেই। 

শুক্রবার সন্ধ্যায় এই দুর্ঘটনা ঠিক কীভাবে ঘটলো, তা নিয়ে ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য দেখা গেছে। 

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকা দক্ষিণ পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে উল্লেখ করেছে, করমণ্ডল এক্সপ্রেসের ১২টি বগি বাহানগর বাজার স্টেশন পার করার সময় লাইনচ্যুত হয় এবং পাশের লাইনের ওপর পড়ে। সেসময় ঐ লাইন দিয়ে হাওড়া এক্সপ্রেস ট্রেন যাওয়ার সময় সেগুলোর সাথে ধাক্কা খায় এবং ট্রেনটির তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়।

পত্রিকাটির খবর অনুযায়ী, বাহানগর বাজার স্টেশনে চারটি রেললাইন আছে, যার একটিতে দুর্ঘটনার সময় একটি মালবাহী ট্রেন দাঁড়িয়ে ছিল।


হিন্দুস্তান টাইমস পত্রিকা বলছে, সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে করমণ্ডল এক্সপ্রেসের ১৫টি কোচ লাইনচ্যুত হয়ে পাশের লাইনের ওপরে পড়ে এবং পরে হাওড়া এক্সপ্রেসের সাথে সংঘর্ষ হলে সেই ট্রেনের দুটি বগি লাইনের বাইরে চলে যায়।

অন্য একটি সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য হিন্দু পত্রিকা খবর প্রকাশ করেছে যে প্রথমে যশবন্তপুর-হাওড়া এক্সপ্রেস ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয়।

ভারতের কর্মকর্তারা বলছেন, সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটি মালবাহী ট্রেনেরও এই দুর্ঘটনায় ভূমিকা ছিল। তবে তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি।

এখন পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে সুনিশ্চিতভাবে জানা না গেলেও, সিগন্যালের সমস্যার কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটির নেতৃত্ব দেবেন রেলওয়ে সেফটি বিভাগের কমিশনার। তিনি বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করেন।

এদিকে, দুর্ঘটনাকবলিত করমণ্ডল এক্সপ্রেসে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি চেন্নাইয়ে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যাতায়াত করে থাকেন। এখন পর্যন্ত দুইজন বাংলাদেশির আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। 

শুক্রবার রাতে কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন একটি প্রেস রিলিজে বলে, বাংলাদেশি কোনো নাগরিক দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনে ছিল কিনা, সে বিষয়ে খোঁজ রাখতে কলকাতায় বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশন রেল কর্তৃপক্ষ ও ওড়িশার রাজ্য সরকারের সাথে যোগাযোগ রাখছে। 

ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন দেশটির রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।  


দুর্ঘটনাস্থলে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ও ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিরও সেখানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। 

আরও পড়ুন: দুর্ঘটনার পর প্রশ্নবিদ্ধ ভারতের রেল সুরক্ষা প্রযুক্তি ‘কবচ’

শনিবার দুর্ঘটনাস্থলেই মোদি জরুরি বৈঠক করবেন বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা। রেল দুর্ঘটনায় উদ্ধারকাজ, আহতদের চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।


একাত্তর/এসজে