২০ মিনিটের মধ্যে তিন ট্রেনের দুই সংঘর্ষ!

ভারতের ওড়িশার বালাসোরে শুক্রবার সন্ধ্যায় ভয়ঙ্কর তিন ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনায় ২৬৬ জন নিহত এবং ৯০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে, যখন একটি যাত্রীবাহী ট্রেন, করমন্ডল শালিমার এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হয়ে একটি মালবাহী ট্রেনকে ধাক্কা দেয় এবং আরেকটি ট্রেন- যশবন্তপুর-হাওড়া সুপারফাস্ট লাইনচ্যুত কোচগুলোর উপর বিধ্বস্ত হয়।

এরিমধ্যে উদ্ধার কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রেলওয়ে ও ফায়ার সার্ভিস। তবে বিধ্বস্ত যাত্রীবাহী বগিগুলোর ভেতরে এখন কোন যাত্রী আটকে আছে কিনা, তা নিশ্চিত হতে একটি দল দুর্ঘটনাস্থলে কাজ করছে। দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে বাংলাদেশের দুইজন যাত্রী আছেন বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পরপরই বেশ কয়েকটি হটলাইন চালু করা হয়েছে।

ভারতীয় রেলওয়ের নির্বাহী পরিচালক অমিতাভ শর্মা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, দুইটি যাত্রীবাহী ট্রেন দুর্ঘটনায় সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলো এবং তৃতীয় মালবাহী ট্রেন, যা ঘটনাস্থলে দাঁড়ানো অবস্থায় ছিলো। এই ট্রেনটির সঙ্গেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। রেলপথে দেশটির সবচেয়ে অন্যতম বড় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার কিছু আগে।

চেন্নাইগামী করমন্ডেল শালিমার এক্সপ্রেস একটি ট্রেন হঠাৎ লাইনচ্যুত হয় এবং দুর্ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মালবাহী ট্রেনকে ধাক্কা দেয়। এতে অনেকগুলো কোচ উল্টে যায়। প্রায় একই সময় যশবন্তপুর-হাওড়া সুপারফাস্ট তখন লাইনচ্যুত কোচের সঙ্গে ধাক্কা খায়। সংঘর্ষের সময় দুটি ট্রেনই প্রবল গতিতে চলছিলো।

ভারতীয় রেলওয়ের কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিশাল ট্র্যাজেডিটি স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয় ৫০ মিনিট থেকে সাতটা ১০ মিনিটের মধ্যে ঘটে। ওড়িশার বালেশ্বরে তিনটি ট্রেনের মধ্যে দুটি সংঘর্ষ ঘটে, যার ফলে একটির উপরে আরেকটি বগি হামলে পড়ে। আর যাত্রীবাহী দুইটি ট্রেন গতি বেশি থাকায় ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: বালেশ্বরে উদ্ধারকাজ শেষ, নিহত বাড়ার আশঙ্কা

কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে তা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে রেলওয়ে মন্ত্রণালয়। কিভাবে একটি পর একটি ট্রেন একে অপরের উপরে হামলে পড়লো, সেটি নিয়ে নানা ধরনের ভাষ্য পাওয়া গেছে। তবে, সবাই নিশ্চিত যে, একই স্থানে তিনটি ট্রেনের মধ্যে দুটি সংঘর্ষ হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে রওয়ানা হয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।


একাত্তর/আরএ