দাবদাহ বাড়ার কারণে ভয়াবহ ঝুঁকিতে মধ্যপ্রাচ্য

দাবদাহ বাড়তে থাকলে চলতি শতক শেষে শুধু ইরাকেই মারা যেতে পারে ১ লাখ ৩৮ হাজারের মতো মানুষ। তীব্র দাবদাহের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে মৃত্যুহার অনেক বাড়বে। বিজ্ঞান বিষয়ক জার্নাল নেচার সাসটেইনেবিলিটির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন ভয়াবহ বিপর্যয়ের খবর। 

আগামী কয়েক দশকে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ব্যাপক হারে বাড়ার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের কী অবস্থা হতে পারে তা নিয়ে একটা সমীক্ষা প্রকাশ করেছে ল্যানসেট। এতে বলা হয়েছে, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে দাবদাহজনিত রোগে ভুগে প্রতি এক হাজারে দুজনের মৃত্যু হয়। 

এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ১২৩। ল্যানসেটের চালানো একটি সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ২০৫০ সাল নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যের ৭০ শতাংশের মতো মানুষ বড় বড় শহরে বসবাস শুরু করবে। এর প্রভাবে শহরাঞ্চলে তাপমাত্রা অনেক বাড়বে। ফলে তাপদাহজনিত কারণে মৃত্যুও বাড়বে। 

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরাক। দেশটিতে কখনো কখনো তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১২২ ডিগ্রি ফারেনহাইট) ছাড়িয়ে যায়। এই পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলেই আশংকা জানাচ্ছে গবেষকরা। তারা বলছেন, দাবদাহ বাড়লে মৃত্যু বেশি বাড়বে বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে। 

গেলো মে মাসে বিজ্ঞানবিষয়ক জার্নাল নেচার সাসটেইনেবিলিটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ শতাংশের চেয়ে বেড়ে গিয়ে ভয়াবহ একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। আর এতে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়বে মধ্যপ্রাচ্য। 

আরও পড়ুন: ধর্ষণের সংজ্ঞা পাল্টাচ্ছে জাপান

জাতিসংঘের চিফ হিট অফিসার অ্যালেনি মিরিভিলি বলেন, আবহাওয়ার কারণে বিপর্যয়গুলোর মধ্যে চরম তাপমাত্রা সবচেয়ে বিপদের কারণ হয়ে উঠছে। কিন্তু বিশ্বজুড়ে এই বিষয়ে খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না। অথচ তাপমাত্রার বাড়ার কারণে প্রকৃতিও এখন বিরূপ আচরণ করছে।

ল্যানসেটের সমীক্ষা বলছে, তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার আশানুরূপ কমবে না। দাবদাহের কারণে মৃত্যুর ৮০ শতাংশই ঘটতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয়। তাই বড় বিপর্যয় এড়াতে হলে সবার আগে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার সীমিত রাখার বিকল্প নেই।


একাত্তর/এসজে