পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত ভোটের দিনেও সংঘর্ষ-প্রাণহানি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের তিন স্তরের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। ভোট শুরুর আগে শনিবার সকালেই উত্তর ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ, রেজিনগর, বেলডাঙ্গা ও তুফানগঞ্জে সংঘর্ষ–হামলায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ১১ জন।

শনিবার রাজ্যের ২২টি জেলার ৬৩ হাজার ২২৯টি গ্রাম পঞ্চায়েত আসন, ৯ হাজার ৭৩০টি পঞ্চায়েত সমিতির আসন এবং ৯২৮টি জেলা পরিষদের আসনে নির্বাচন হয়। 

স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় শুরু হয়ে ভোট চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। রাজ্যের ২২ জেলার মধ্যে দার্জিলিং এবং কালিম্পং জেলায় দুই স্তরে ভোট হয়েছে। 

এগুলো হলো গ্রাম সভা ও পঞ্চায়েত সমিতি। আর বাকি জেলাগুলোতে তিন স্তরে যেমন, গ্রাম সভা, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদের ভোট হয়েছে। ভোটের ফল জানা যাবে ১১ জুলাই।

পঞ্চায়েত ভোট চলার সময় সবচেয়ে উত্তপ্ত ছিলো মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন এলাকা। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোটের দিন দুপুর পর্যন্ত সেই জেলায় পাঁচজন খুন হয়েছেন।

অভিযোগ, শুক্রবার রাত থেকে মুর্শিদাবাদে শুধুমাত্র শাসকদলেরই তিন জন কর্মী খুন হয়েছেন। এক কংগ্রেস কর্মী এবং একজন সিপিএম সমর্থককেও খুনের অভিযোগ উঠেছে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীতে নিহত হয়েছেন তৃণমূল কর্মী। কোচবিহারের ফলিমারি গ্রাম পঞ্চায়েতে ভোটেরহাট বুথে বিজেপির এজেন্টকে খুনের অভিযোগ উঠেছে। 

দিনহাটায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে বিজেপি কর্মীর। মালদহের মানিকচকে তৃণমূল কর্মীকে খুনের অভিযোগ কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। ইংরেজবাজারে বোমাবাজিতে নিহত তৃণমূল প্রার্থীর শাশুড়ি। 

উত্তর দিনাজপুরের চাপড়ায় তৃণমূলের এক কর্মীকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে। গোয়াল পোখরেও শাসকদলের এক কর্মী নিহত হয়েছেন। 

আরও পড়ুন: পাবজিতে ভারত-পাকিস্তান প্রেম, সমাপ্তি হলো জেলে

পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায় নিহত তৃণমূলের এজেন্ট। যদিও রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিংহ শনিবার দুপুরে জানান, ভোটের দিন তিন জনের মৃত্যু হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার পর থেকেই রক্তপাত, সংঘর্ষ, বোমাবাজি, প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে রাজ্যে। নির্বাচনের দিনও সেই ছবির কোন পরিবর্তন হয়নি। 


একাত্তর/এসজে