পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ছিলো। এমন একটি খবর প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নিউজ আউটলেট দ্য ইন্টারসেপ্ট। পাকিস্তান সরকারের কিছু নথির বরাত দিয়ে প্রতিবেদনটি ছাপা হয়।
স্বয়ং ইমরান খানই প্রথম দাবি করেছিলেন যে, তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে কলকাঠি নেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। বিষয়টি নিয়ে দেশটিতে আলোচনাও হয়েছে বিস্তর। এবার তাঁর দাবির স্বপক্ষে প্রমাণও দিয়েদিলো যুক্তরাষ্ট্রেরই একটি সংবাদ মাধ্যম।
বছর দেড়েক আগে যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের দুই কর্মকর্তার মধ্যে একটি বৈঠক হয়। তার একমাস পরই সংসদে অনাস্থা ভোটে অভিসংশিত হন ইমরান খান।
মার্কিন সংবাদ মাধ্যম দ্য ইন্টারসেপ্ট জানিয়েছে, পাকিস্তান সরকারের বিভিন্ন নথি বলছে, সংসদে অনাস্থা ভোটে ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করার ঘটনায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীরও সমর্থন ছিলো।
ইন্টারসেপ্টের দাবি, মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইমরানের বিরুদ্ধে তাদের নিয়মিত কৌশল প্রয়োগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানি দূতকে জানানো হয়, ইমরানকে সরিয়ে দেওয়া হলে ইসলামাবাদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের উষ্ণ সম্পর্ক থাকবে, নইলে পাকিস্তানকে একঘরে করে দেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের এমন মনোভাবের কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে ইমরান খানের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আপত্তি তুলেছিল যুক্তরাষ্ট্র। সেইসময় ইমরান খানের মস্কো সফর ক্ষুব্ধ করে তোলে যুক্তরাষ্ট্রকে।
আলোচিত সেই বৈঠকে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে পাকিস্তানের অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু।
ইন্টারসেপ্টের তথ্য অনুযায়ী, ডোনাল্ড বলেছেন, তিনি মনে করেন, ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট সফল হলে ওয়াশিংটনে সবাইকে ক্ষমা করা হবে। কারণ, তার রাশিয়া সফরটিকে একটি সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে পরবর্তীতে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, পাঁচ আগস্ট ইমরান খানকে যখন দুর্নীতির অভিযোগে তিন বছরের কারাদণ্ডে দেওয়া হয় তখন থেকে আরও নাজুক হয়ে পড়ে পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। আর আদালতের সিদ্ধান্তে পাকিস্তানের আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না ক্রিকেট থেকে রাজনীতিতে আসা ইমরান খান।