আমেরিকায় যাবার প্রহর গুনছে ২০ হাজার আফগান

আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতা দখলের আগে যেসব নাগরিকেরা সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ছিলেন তাদের শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের একটি সুযোগ দেয় বাইডেন প্রশাসন। যার নাম পিটু প্রোগ্রাম। 

এর আওতায় প্রায় ২০ হাজার আফগান অবস্থান করছেন প্রতিবেশী পাকিস্তানে। সীমিত অর্থ আর সুযোগে দৈন্য দশা তাদের। আছে গ্রেপ্তার আতঙ্কও। 

পাকিস্তানের রাজধানীতে ছোট্ট এক কামরায় ১২ সদস্যের পরিবারটির বসবাস। একরাশ হতাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে। 

ইসলামাবাদের কাছেই ঘরটি ভাড়া নিয়ে কোন রকম দিন পার করছে এরা। তালেবান শাসনে চলা জন্মভূমি আফগানিস্তান ছেড়ে গত বছর পাকিস্তানে এসেছে পরিবারটি। 

পরিবারের প্রধান এক সময় কাবুলে যুক্তরাষ্ট্র চালিত একটি এনজিও'এর নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন। তালেবানের ক্ষমতা দখল আর মার্কিন বাহিনীর আফগানিস্তান ছেড়ে যাওয়ার পর পিটু প্রোগ্রামের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র শরণার্থী হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। 

পিটু প্রোগ্রামের আওতায় যেসব আফগানরা তাদের দেশে যুক্তরাষ্ট্র চালিত বিভিন্ন সংস্থায় কাজ করেছেন তারা দেশটিতে শরণার্থী হিসেবে প্রবেশের জন্য আবেদন করার সুযোগ পেয়েছেন। 

আবেদন কার্যক্রমের জন্য গত বছর তৃতীয় কোন দেশে অবস্থানের নির্দেশ দেয় মার্কিন প্রশাসন। এরপরই আরও হাজারো আফগানের মতো বাড়ি বিক্রি করে পরিবারটি পাকিস্তান চলে আসে। 

তবে, বছর শেষ হয়ে এলেও শরণার্থী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশের সুযোগ যেমন হয়নি তেমনি জমানো টাকাও শেষের পথে। চিন্তার ভাঁজ কপালে। 

তারা এখন শুধু টাকার কথাই ভাবছে। টাকা শেষ হয়ে গেলে, কি করবে বুঝতে পারছে না? তারা খুবই হতাশ। দশ মাস হয়ে গেছে তারা এখানে আছেন। অনিশ্চিত এক নিয়তির পথে তারা 

আইনজীবীদের দেয়া তথ্য বলছে, পিটু প্রোগ্রামের আওতায় আবেদনকারী ১৬ থেকে ২০ হাজার আফগান নাগরিক পাকিস্তানে আটকে আছে। বেশিরভাগ এখানে যেমন কাজ করার সুযোগ নেই, তেমনি নেই সরকারিভাবে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ। 

ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত পাকিস্তান এখন চরম অর্থনৈতিক সঙ্কটে। হাজারো আফগান এখন দেশটির উদ্বেগের কারণ। তাই আটক হওয়ার আতঙ্কে আছেন এই আফগানরা। 

আরও পড়ুন: নির্বাচনী ফল পাল্টানোর চেষ্টার দায়ে অভিযুক্ত ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের পি-টু প্রোগ্রামের ধীর গতির সমালোচনা করে মানবাধিকার কর্মীদের আশঙ্কা পাকিস্তানে এই প্রোগ্রাম থমকে যাওয়ার। যদিও মার্কিন প্রতিষ্ঠান ও সেনাদের পক্ষে কাজ করা আফগানদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে তালেবান। 

তবুও, বৈষম্য ঝুঁকি, ভঙ্গুর অর্থনীতি, বাক স্বাধীনতা, নারীদের কাজ ও শিক্ষায় নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশতে আর ফিরতে চান না বের হয়ে আসা নাগরিকরা। 


একাত্তর/এসজে