গাজায় তিনটি হাসপাতাল ও একটি স্কুলে ইসরাইল বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছে। একই সঙ্গে অন্য একটি হাসপাতালে এখন যুদ্ধ চলছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তবে হামলার বিষয়ে ইসরাইল তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। এদিকে গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের বিষয়ে নিন্দা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন।
স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোরে উত্তর গাজার বৃহত্তম হাসপাতাল আল-শিফার, ইন্দোনেশিয়ান একটি হাসপাতাল এবং নাসের রান্টিসি পেডিয়াট্রিক ক্যান্সার হাসপাতাল ও আল-নাসর এলাকার আল-বুরাক স্কুলে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বস্ত শিফা হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ আবু সেলমেয়াহ রয়টার্সকে বলেছেন, ইসরায়েল এখন গাজা শহরের হাসপাতালগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করছে। গাজা শহরের আল-বুরাক স্কুলে ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ২৫ জন নিহত হয়েছে। ধ্বংস হয়েছে বাড়িঘরও।
এদিকে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট বলছে, ইসরাইলি বাহিনী আল-কুদস হাসপাতালে গুলি করছে, এখনও সহিংস সংঘর্ষ হচ্ছে।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ছিটমহলের কেন্দ্রস্থলে হামাসের ওপর ইসরায়েলের সেনারা এই হামলা করেছে। এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষ, রোগী ও চিকিৎসকরা থাকেন। ইসরাইলের দাবি, গত মাসে হামাসের জঙ্গিরা ওই এলাকা থেকে তাদের ওপর হামলা করেছিল। হামাস তাদের মানব ঢাল হিসে ব্যবহার করছে।
তারা জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে উত্তর গাজার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হওয়া ইসরায়েলি ট্যাঙ্কগুলো নাসের রান্টিসি, শিশু ও চক্ষু হাসপাতাল এবং আল-কুদস হাসপাতালের আশেপাশে অবস্থান নেয়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল-কিদরা বলেছেন, ইসরাইল শিফা হাসপাতালের ভবনে পাঁচ বার বোমা হামলা চালিয়েছে। সকালের হামলায় একজন ফিলিস্তিনি নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।
ফিলিস্তিনি রেড ক্রস জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী আল-কুদস হাসপাতালে গুলি চালাচ্ছে এবং সেখানে সহিংস সংঘর্ষ হয়েছে। যার মধ্যে একজন নিহত এবং ২৮ জন আহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই শিশু।
ইসরাইল হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য না করে জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্য বেসামরিক নাগরিক নয়। তবে হামাস জঙ্গিদের শিফা এবং অন্য হাসপাতালের নিচে লুকানো কমান্ড সেন্টার এবং টানেল অবস্থান নিয়েছে।
ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর দাবি, স্কুল, হাসপাতাল, স্কাউট গ্রুপ, শিশুদের খেলার মাঠ, মসজিদসহ বিভিন্ন এলাকায় হামাস ঘাঁটি গেড়েছে। তবে তাদের এমন দাবিকে অসত্য বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে হামাস।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, ইসরাইলের হামলায় এ পর্যন্ত ১১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে একটি বড় অংশ শিশু।
আর ইসরাইলি সামরিক বাহিনী বলেছে, তারা গাজায় ১৫ হাজারের বেশি ‘সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা চালিয়েছে।