কিউবাতে পেট্রোলের দাম বাড়লো পাঁচ গুণ

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে এমনিতেই বিশ্বের জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা চলছে। এর সাথে মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে হামাস-ইসরাইল সংঘাত। বিশ্বের দেশে দেশে জ্বালানি তেল নিয়ে চলছে বড় ধরনের সংকট। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাড়ানোর হচ্ছে জ্বালানি তেলের দাম।

এবার মধ্য আমেরিকার ছোট্ট দেশ কিউবাতেও জ্বালানি তেল সংকটের কারণে মহাবিপদে পড়েছে দেশটির সরকার। কিউবাতে অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে চলছে মন্দা। বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। এতেই খাবি খাচ্ছে দেশটির সাধারণ মানুষ। এই পরিস্থিতির মধ্যেই এসেছে পেট্রোলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা।

তাও আবার এক লাফে কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। এক ধাক্কায় পাঁচশ’ শতাংশ বাড়লো পেট্রোলের দাম। দুই-পাঁচ টাকা দাম বাড়লেই যেখানে হিমশিম খায় মধ্যবিত্তরা, সেখানেই পাঁচ শতাংশ দাম বাড়ায় কার্যত হাতের নাগালের বাইরে চলে গেছে দেশটির জ্বালানি তেল।

কিউবা সরকার জানিয়েছে, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে। বাজেটে ঘাটতি মেটাতেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।  আগে যেখানে এক লিটার গ্যাসোলিনের দাম ছিল ২৫ পেসো, যা মার্কিন ২০ সেন্টের সমান। সেই তেলের দামই বর্তমানে ১৩২ পেসোয় পৌঁছেছে।

প্রিমিয়াম গ্যাসোলিনের দামও ৩০ পেসো থেকে বেড়ে ১৫৬ পেসোয় পৌঁছেছে। যাদের মাসিক বেতনই ২১ ডলার, অর্থাৎ ১৭৫০ টাকা, তারা কীভাবে প্রতি সপ্তাহে ১০ লিটার গ্যাসোলিন কিনবে ৯০০ টাকা দিয়ে, তা নিয়েই প্রশ্ন সাধারণ মানুষের মনে, বলছেন এতে করে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে অনেকটাই।

cuba-petrol-price1

শুধু তো জ্বালানির দামই বাড়েনি। এরসঙ্গে বিদ্যুতের খরচও এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়েছে। সরকারের তরফে বিদ্যুতের দাম ২৫ শতাংশ বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছে।

এক কোটি ১০ লক্ষ জনসংখ্যার কিউবাতে ৯০ দশকের পর সব থেকে ভয়ঙ্কর আর্থিক সঙ্কটের মুখোমুখি। এ পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে করোনাকালে। অর্থনীতির পতন, বিদেশি সাহায্য কমে আসা, কৃষিতে মন্দা ও পরিকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে ক্রমশ ধসে যাচ্ছে কিউবার অর্থনীতি।

২০২৩ সালে কিউবার অর্থনীতি দুই শতাংশ পতন হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধি বেড়েছে ৩০ শতাংশ। এর ফলে জ্বালানিসহ অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় পণ্য কেনা কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।