যুক্তরাষ্ট্রকে পুরোনো ‘ঢং’ ত্যাগ করতে হবে: আব্দুল্লাহিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকির ভাষা এবং অভিযোগ উত্থাপনের পুরোনো ঢং ত্যাগ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আব্দুল্লাহিয়ান। একইসাথে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, যেকোনো হুমকিমূলক পরিস্থিতিতে ইরানের জবাব তাৎক্ষণিক ও কঠোর হয়ে থাকে।

বুধবার ইরানের রাজধানী তেহরানে মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরোধ অক্ষের বিরুদ্ধে হুমকির ভাষা পরিহার করে চলমান সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের দিকে মনোযোগী হতে বাইডেন সরকারের প্রতি আহবান জানান। 

তেহরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পার্সটুডে বলছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দৃশ্যত তার দেশের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের এক হুমকির জবাব দিতে গিয়ে এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

এর আগে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছিলেন, জর্দানের একটি মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার জবাব দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। 

সোমবারের ওই ড্রোন হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত ও ৪০ জনেরও বেশি সেনা আহত হয়। ওই হামলার জন্য ইরান-সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র যোদ্ধাদের দায়ি করেন বাইডেন। 

এদিকে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি নিরাপত্তা পরিষদের প্রধানের কাছে লেখা এক চিঠিতে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে তৎপর কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কোনো ধরনের তৎপরতার দায় ইরান নেবে না। এ অঞ্চলের প্রতিরোধ সংগঠনগুলোর প্রতি ইরানের নৈতিক সমর্থন থাকলেও এসব সংগঠন তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিচালিত হয় এবং সেখানে তেহরানের কোনো হাত নেই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নিলে ইরান আর চুপ থাকবে না।  

এর আগে গেলো অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল। এ আগ্রাসনে ২৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। 

গাজা উপত্যকায় ইহুদিবাদী ইসরাইল ভয়াবহ গণহত্যা শুরু করার পর সিরিয়া ও ইরাকের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলনগুলো ইসরাইল ও তার প্রধান পৃষ্ঠপোষক যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে আঘাত হানতে শুরু করে। 

সংগঠনগুলো বলছে, ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সমর্থনের অংশ হিসেবে তারা এই হামলা চালাচ্ছে।