হঠাৎ করে আবারও অশান্ত হয়ে উঠেছে ভারতের উত্তর পূর্বের রাজ্য মণিপুর। বৃহস্পতিবার রাতে রাজ্যের চুরাচাঁদপুর জেলায় পুলিশ সুপারের অফিসে অন্তত ৪০০ জন হামলা করেছেন। এসময় হামালকারীদের দুই জন নিহত ও অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার রাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এসপি অফিসে এই হামলা করেছে মণিপুরের কুকি-জো উপজাতি।
পুলিশ জানিয়েছে, পুলিশ সুপার হেড কনস্টেবল সিয়ামলাল পালকে চাকরিচ্যুত করলে কয়েক দিন ধরে জেলায় উত্তেজনা বিরাজ করছিলো।
সিয়ামলালের চাকরিচ্যুতের মূল কারণ ছিলো, তিনি একটি পাহাড়ের উপরে ‘সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের’ সঙ্গে একটি বাঙ্কারে সেলফি তুলেছিলেন, যা ভাইরাল হয়। তার এই চাকরির বিষয় নিয়ে সশস্ত্র দুষ্কৃতিকারীরা বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ সুপারের (এসপি) অফিসে হামলা চালায় এবং অফিস ভাঙচুরের পাশাপাশি পুলিশের বহু যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়। হামলার সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয় দুই জন ও আহত অন্তত ২৫ জন।
এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার জানিয়েছে, দুষ্কৃতিকারীরা সংখ্যায় কয়েকশ ছিলেন। তারা পুলিশ সুপারের দপ্তরে মোতায়েন র্যাফ জওয়ানদের ওপর হামলা চালালে সংঘর্ষ বাধে। দুস্কৃতিকারীদের চিহ্নিত করতে হামলার ভিডিও ফুটেজ দেখা হয়েছে। সেখানে হামলাকারীদের দলে মণিপুর পুলিশের এক সদস্য দেখা গেছে। সিয়ামলাল পাল নামে তাকে শনাক্ত করা হয়েছে।
গত কয়েক বছর ধরে অশান্ত মণিপুরের বেশ কয়টি অঞ্চল। অশান্তি ঠেকাতে গত ছয় মে মণিপুরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। একাধিক কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নামানো হয়, কিন্তু তার পরেও সহিংসতা থামেনি। কুকি-জো উপজাতি ও মেইতিদের মধ্যে মণিপুরে জমি, সম্পদ, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ও জাতিগত সহিংসতা এখন ৯ মাস ধরে চলছে। এরই মধ্যে ১৮০ জনের বেশি মারা গেছে এবং ৫০ হাজার লোক অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে।