ধর্মঘটে চিকিৎসকরা, দ্বারে দ্বারে ঘুরে মারা গেলেন রোগী

দক্ষিণ কোরিয়ায় চিকিৎসকদের অব্যাহত ধর্মঘটে এক রোগী চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছেন। প্যারামেডিকরা ওই রোগীকে অন্তত সাতটি হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু হাসপাতালে চিকিৎসক ও বেড না থাকায় তিনি অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরেই মারা যান। খবর বিবিসির।

মঙ্গলবার বিবিসি এক প্রতিবেদন জানিয়েছে, ৮০ বছর বয়সী ওই বৃদ্ধাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে বেশ কয়েকটি হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও বার বার তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। 

ডেজন শহরের প্যারামেডিকরা পরে দেশটির সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তির জন্য বৃদ্ধাকে নিয়ে যাওয়ার আগে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যান।

ধারণা করা হচ্ছে, চিকিৎসকদের ধর্মঘটে সঙ্গে যুক্ত এটি সরাসরি প্রথম মৃত্যু।

ঘটনাটি দক্ষিণ কোরিয়ার গণমাধ্যমগুলোতে ব্যাপকভাবে প্রচার হয়েছে এবং মঙ্গলবার সরকারি কর্মকর্তারা জানান তারা এই মামলাটিকে তদন্ত করে দেখবেন।

একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার এই মাসের শেষ নাগাদ চিকিৎসকদের কাজে যোগ দেওয়ারও আহবান জানান এবং অবিলম্বে কাজে যোগ না দিলে তাদের লাইসেন্স বাতিলের হুমকিও দেয়।  

উন্নত দেশের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়াতে সবচেয়ে কম চিকিৎসক রয়েছে রোগীর অনুপাতে। সেখানে প্রতি এক হাজার মানুষের জন্য দুই দশমিক পাঁচ জন চিকিৎসক রয়েছেন। তাই দেশটির সরকার আরও মেডিক্যাল স্কুলে করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ছিলো। 

কিন্তু সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে খুশি হতে পারেনি দেশটির চিকিৎসকরা। অধিক সংখ্যক ডাক্তার থাকলে প্রতিযোগিতা আরও বেড়ে যাবে। তাতে চিকিৎসকদের আয়ও ও সুযোগ-সুবিধা কমে যাবে। এই জন্য চিকিৎসক বাড়ানোর প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সপ্তাহখানেক ধরে কাজ বন্ধ রেখে ধর্মঘট করছেন দেশটির ইন্টার্ন ও আবাসিক চিকিৎসকরা। 

দেশটির প্রায় ৯ হাজার জুনিয়র ডাক্তার কাজ বন্ধ রেখে ধর্মঘট করছেন। আর সারা দেশে শতাধিক হাসপাতালে প্রায় ১০ হাজার চিকিৎসক ইতিমধ্যে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টভুক্ত (ওইসিডি) অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় সব হাসপাতাল বেসরকারি থাকার কারণে দেশটিতে চিকিৎসকদের বেতন সবচেয়ে বেশি। এমনকি সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা লাখ লাখ টাকা বেতন পান।