পহেলা রমজানে আল-আকসা অভিমুখে লংমার্চের ডাক হামাসের

জর্দান নদীর পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের আসন্ন রমজান মাসের প্রথম দিন আল-আকসা মসজিদ অভিমুখে লংমার্চ করার আহবান জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। 

বুধবার রাতে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে এ আহবান জানিয়েছেন হামাসের পলিটব্যুরো প্রধান ইসমাইল হানিয়া। খবর পার্সটুডে ও রয়টার্সের। 

ইসমাইল হানিয়া বলেন, আল-আকসা মসজিদ ও গাজা উপত্যকার ওপর আরোপিত ইসরাইলি অবরোধের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই এবং দু’টি অবরোধ একই সূত্রে গাঁথা।

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে অধিকৃত পশ্চিম তীরের আল-কুদস শহরে অবস্থিত মুসলমানদের প্রথম কিবলা আল-আকসা মসজিদ জবরদখল করে রেখেছে ইসরাইল। সম্প্রতি ইসরাইলের জায়নবাদী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বেন গাভির ঘোষণা দিয়েছেন, আসন্ন রমজান মাসে ‘নিরাপত্তাগত কারণে’ মুসলমানদের আল-আকসা মসজিদে যাওয়ার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে। তার এ ঘোষণার পরই হামাসের রাজনৈতিক নেতা ইসমাইল হানিয়া লংমার্চ করার আহবান জানালেন। 

হামাসের পলিটব্যুরো প্রধান ইসমাইল হানিয়া।

হানিয়া আরও বলেন, আল-আকসাসহ অন্যান্য পবিত্র স্থান আন্তর্জাতিক আইনে পরিচালিত হতে হবে। ফিলিস্তিনি জনগণ সবরকম প্রতিরোধের মাধ্যমে তাদের মসজিদ ও গীর্জাসহ অন্যান্য পবিত্র স্থাপনা রক্ষা করবে।

প্রতি বছর পবিত্র রমজান মাস এলেই আল-আকসা মসজিদের আশপাশে ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর হামলা জোরদার করে ইসরাইল। চলতি বছর গাজা যুদ্ধের কারণে এ বিষয়টি অন্যরকম গুরুত্ব পাচ্ছে।

গাজায় গেলো চার মাসের ভয়াবহ ইসরাইলি আগ্রাসনের পরিপ্রেক্ষিতে আসন্ন রমজানে ইসরাইলি সেনারা আল-আকসা মসজিদে ফিলিস্তিনি মুসলমানদের সঙ্গে অনেক বেশি সহিংস আচরণ করবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। 

চাঁদ দেখা যাওয়া সাপেক্ষে ফিলিস্তিনে আগামী ১০ অথবা ১১ মার্চ পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে যাচ্ছে। 

এর আগে অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল। এ আগ্রাসনে ৩০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।