রমজানে আমিরাতে দশ হাজার পণ্যে মূল্যছাড়

রমজানে বাংলাদেশে পণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেলেও সংযুক্ত আরব আমিরাতে উল্টো চিত্র দেখা দেয়। এ বছর দেশটিতে দশ হাজার পণ্যে মূল্যছাড় দেয়া হয়েছে। ভোজ্যতেল, চাল ও আটার মতো বেশ কয়েকটি জরুরি পণ্যের দাম ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে। 

প্রতিবারের মতো এবারও সংযুক্ত আরব আমিরাতের খুচরা ব্যবসায়ীরা রমজান মাসে ভোক্তাদের নানা রকম সুবিধা দিচ্ছে। এসবের মধ্যে রয়েছে পণ্যের মূল্য স্থির রাখা, এখন কিনে পরে দাম দেওয়ার সুযোগ, ব্যাংক কার্ডের মাধ্যমে অতিরিক্ত মূল্য ছাড় এবং পাঁচ হাজার দিরহামের গিফট কার্ড। 

সবার ওপরে রয়েছে, ‘গত বছরের চেয়েও কম দাম’ এই প্রতিশ্রুতি। রমজান উপলক্ষে ই–কমার্স প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন ও নুন যেমন নানা রকম সুবিধা দিচ্ছে, তেমনি হাইপার মার্কেটগুলোও অনলাইন এবং দোকানে এসে পণ্য কেনার ক্ষেত্রে সুবিধা দিচ্ছে। এসব হাইপার মার্কেটে পাওয়া না, এমন কোন পণ্য নেই। 

রমজানে খুচরা পর্যায়ে ৯টি নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আরব আমিরাত। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে পূর্ব অনুমতি ছাড়া রান্নার তেল, ডিম, দুগ্ধজাত পণ্য, চাল, চিনি, পোল্ট্রি, শিম, রুটি এবং আটার দাম কোনোভাবেই বাড়ানো যাবে না।

এবারের রমজান মাসে আমিরাতের বাজারে শাক-সবজি এবং ফলের দৈনিক আমদানি ২৫ হাজার টন ছাড়িয়ে গেছে। রোজার মাসে বাসিন্দাদের দ্রব্যমূল্য হাতের নাগালে রাতে প্রতি বছরের মতো এবারো বাজার মনিটরিং করছে সরকার। রমজান মাসে সব মিলিয়ে ৪৫০টি অভিযান পরিচালনা করবে কর্তৃপক্ষ।   

বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোও মানছে আমিরাতের আইন। সবার সাথে মিল রেখে রাখা হয়েছে পণ্যের দাম। তবে বাংলাদেশে রমজান এলে পরিবারের খরচ নিয়ে শঙ্কায় দিন পার করেন প্রবাসীরা। খুব অল্প বেতনের সাধারণ শ্রমিকেরাও রমজানে অনায়াসে দিন কাটায়। ব্যয়ভার নিয়ে চিন্তা নেই তাদের। 

আমিরশাহী সরকারের উদ্যোগে দ্রব্যমূল্য নিয়ে রমজান যেন আতঙ্ক নয়, বরং প্রবাসীদের কাছে আনন্দের। একই রকম বাজার নিজ দেশেও দেখতেও চান প্রবাসী বাংলাদেশিরা। সঠিক আইন আর কঠোর নজরদারি হলে সেটি সহজেই করা সম্ভব বলে মনে করেন তারা।