ইরান-পাকিস্তান দুই প্রতিবেশী দেশের কূটনৈতিক ঘনিষ্ঠতা নিয়ে আবারও বেঁকে বসেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাইপলাইনের মাধ্যমে ইরানের প্রাকৃতিক গ্যাস পাকিস্তানে রপ্তানি করার সিদ্ধান্তের সরাসরি বিরোধিতা করেছে দেশটি।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গ্যাস রপ্তানির চুক্তি বাস্তবায়িত হলে পাকিস্তানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও হুমকি দিয়েছে বাইডেন প্রশাসন।
দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয় মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু ওয়াশিংটনে মার্কিন কংগ্রেসের এক শুনানিতে বলেছেন, ইরান-পাকিস্তান গ্যাস পাইপলাইন বা আইপি প্রকল্পের নির্মাণকাজ বন্ধ করার জন্য ওয়াশিংটন সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠতা বিশেষ করে আইপি গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পের ব্যাপারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উদ্বেগ প্রকাশ করছে। এ বিষয়ে ওয়াশিংটন ইসলামাবাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে জানান ডোনাল্ড লু।
এই বিশাল প্রকল্পের অর্থায়ন পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে লু বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টিতে গভীর দৃষ্টি রেখেছে।
মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইরানের জ্বালানি খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা অবস্থায় দেশটির কাছ থেকে গ্যাস কেনার ব্যাপারে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কোনো ছাড় চায়নি। এ কারণে আমরা ইসলামাবাদকে এ কাজ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাবো।
লু দাবি করেন, আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো এই প্রকল্পে অর্থায়ন করতে রাজি হবে না বলে এটি পাকিস্তানের স্বার্থ রক্ষা করবে না।
ইরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পার্সটুডে বলছে, এর আগে গেলো মাসে পাকিস্তান সরকার বহুল প্রতীক্ষিত আইপি পাইপলাইন প্রকল্পের কাজ শুরু করার ঘোষণা দেয়। এক দশকেরও বেশি সময় আগে এই প্রকল্পের ব্যাপারে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই হলেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ভয়ে এতদিন ইসলামাবাদ এটি বাস্তবায়নের কাজে হাত দেয়নি। ইরানের পক্ষ থেকে পাকিস্তান সীমান্ত পর্যন্ত পাইপলাইন নির্মাণ করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সবশেষ গেলো মাসে পাকিস্তানের মন্ত্রিসভার জ্বালানি বিষয়ক কমিটি ইরান-পাক সীমান্ত থেকে পাকিস্তানের গোয়াদর বন্দর পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণকাজের অনুমোদন দিয়েছে।
২০১৩ সালে সই হওয়া এ প্রকল্পের পাকিস্তান অংশের কাজ ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ সমাপ্ত করার কথা ছিলো। চুক্তি অনুযায়ী প্রকল্প থেকে সরে গেলে পাকিস্তান ইরানকে ১,৮০০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দেবে বলে কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন এবং রাশিয়ার মধ্যস্ততায় ইরান-পাকিস্তানের কূটনৈতিক ঘনিষ্ঠতা দিন দিন আরও গভীর হচ্ছে, আর এতেই বিপাকে পড়েছে ওয়াশিংটন। কারণ এ অঞ্চলে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম পুরাতন মিত্র।