প্রায় ছয় মাস পর দক্ষিণ গাজার খান ইউনুস থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার করে নেয়ার পরই বীরের বেশে শহরটিতে ফিরতে শুরু করেন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা। ধ্বংস হওয়া বাড়িঘরেই আশ্রয় নিচ্ছেন তারা।
সোমবার যুদ্ধবিধ্বস্ত শহরের সার্বিক পরিস্থিতি দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকেই। সেখানে প্রতিটি বাড়িতে বুলডোজার চালানো হয়েছে। এমনকি, এখনো মানুষজনকে মাটি খুঁড়ে মরদেহ বের করতেও দেখা গেছে।
ছড়াচ্ছে লাশের গন্ধ। একে অসহনীয় পরিস্থিতি বলছেন স্থানীয়রা। কাতারভিক্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ফিলিস্তিনিরা চারিদিকে ধ্বংসস্তুপের মধ্যে তাদের বাড়িঘরও খুঁজে পাচ্ছে না।
কয়েকমাস ধরে ইসরাইলের বোমা হামলার কারণে খান ইউনুস ও এর আশেপাশের এলাকায় এখন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। অনেকেই বলেছেন, তারা বাড়িঘর কিছু খুঁজে পাননি।
গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ শুরুর ছমাস পর দক্ষিণাঞ্চল থেকে একটি ব্রিগেড বাদে সব স্থলসেনা প্রত্যাহার করেছে ইসরাইল। রোববার থেকেই খান ইউনুস থেকে সেনা সরাতে শুরু করে ইসরাইল।
তবে এই সেনা সরানোর মানেই যুদ্ধ শেষ হতে চলার লক্ষণ নয়। বরং যুদ্ধের পরবর্তী পর্যায়ের জন্য নতুন করে সংগঠিত হতে দক্ষিণ গাজায় সেনা সংখ্যা কমানো হয়েছে বলেই জানিয়েছে আইডিএফ।
গাজার রাফাহ নগরীতে এখন সামরিক অভিযান চালাতে চায় ইসরাইল। তবে, কবে নাগাদ এই অভিযান পরিচালনা করা হবে সে বিষয়ে কিছু জানাননি ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, রাতে খান ইউনুস থেকে অনেক ট্যাংক সরে যেতে দেখা গেছে। সেসব ট্যাংক গাজা-ইসরাইল সীমান্তে এনে রাখা হয়েছে।
গাজার বিভিন্ন এলাকা থেকে মিসরের সীমান্তবর্তী রাফাহ নগরীতে গিয়ে আশ্রয় নিয়ে আছে বহু ফিলিস্তিনি। খান ইউনুস থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের খবরে রাখা থেকে অনেকেই সেখানে ফিরে যাচ্ছেন।
গত কয়েক মাস ধরে খান ইউনুস শহরে স্থল অভিযান চালিয়ে আসছিলো ইসরাইলি সেনারা। ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট বলেন, দক্ষিণ গাজা থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, গাজায় মানবিক সাহায্যপণ্য নিয়ে প্রবেশের জন্য ৩২২টি ট্রাককে কারেম আবু সালেম ও রাফাহ ক্রসিং অতিক্রমের অনুমতি দিয়েছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। এসব ট্রাকে রয়েছে পানি, চিনি, আটাসহ অন্যান্য অত্যাবশ্যক পণ্য, যা ফিলিস্তিনিদের জন্য এখন খুবই প্রয়োজন। তবে এসব ট্রাকের কোনোটিকেই গাজার উত্তর অংশে পৌঁছানোর অনুমতি দেয়া হয়নি।
অন্যদিকে, মিসরের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছে, কায়রোতে যুদ্ধবিরতির আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পেরেছে অংশ নেয়া পক্ষগুলোর প্রতিনিধিরা।
হামাস ও কাতারের প্রতিনিধিরা কায়রো থেকে ফিরে গেছেন। দুদিন পরে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে আবারও আলোচনায় যোগ দেবেন তারা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের প্রতিনিধিরাও কায়রো ছেড়ে গেছেন।