ফিলিস্তিন শিক্ষার্থী বাসমার বদলে যাওয়া জীবন

গাজায় ছয় মাসের যুদ্ধে লাশের সারির নীচে চাপা পড়েছে লাখো মানুষের স্বপ্ন। তাদেরই একজন বাসমা আল-শাভিশ। যুদ্ধে বাবা, ভাই-বোনকে হারালেও দমে যাননি তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা বন্ধ হওয়ায়, বাধ্য হয়ে খাবার বিক্রি করে চালাতে হচ্ছে জীবন-সংসার।

ফিলিস্তিনের বিশ বছর বয়সী শিক্ষার্থী বাসমা আল-শাভিশ। যুদ্ধের আগে সে গাজার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। উচ্চ শিক্ষা শেষে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছে থাকলেও এখন সবটাই অতীত। বর্তমানে দেইর আল-বালাহ-তে খাবার বিক্রির ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

কারণ গাজায় ইসরাইলি অভিযানে চরম মূল্য চুকাতে হয়েছে তার পরিবারকে। ইসরাইলি বাহিনীর বোমা হামলায় বাবা ও ছোট ভাই-বোনকে হারিয়ে, হয়েছেন বাস্তুচ্যুত। এমন পরিণতি শুধু একজনের জীবনে নয়, গোটা গাজা উপত্যকায় এমন কাহিনী এখন হাজার হাজার।

শাভিশ কষ্ট আরও দ্বিগুণ হয়েছে বাবার মরদেহের সন্ধান না পেয়ে। ময়লার ব্যাগে ভরে তার বাবার মরদেহ ফেলে দিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। তাই একমাত্র উপর্জনাক্ষম বাবাকে হারিয়ে এখন পরিবারের সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়েছেন। নতুন এক জীবন দেখছেন তিনি।

palastain1

এখন তার দিন শুরু হয় সকাল ছয়টা থেকে। দিনের সবটুকু সময় কেটে যায় স্থানীয় খাবার হুমাস প্রস্তুত করতে। এগুলো গাজার আল-আকসা হাসপাতালে বিক্রি করেন তিনি। এই আশ্রয়কেন্দ্রে সবচেয়ে বড় ভোগান্তি পোহাতে হয় রান্নার গ্যাস না থাকায়।

এর সাথে যোগ হয়েছে রান্নার উপকরণের চরম সংকট এবং একই সাথে সেগুলো ব্যয়বহুলও। শাভিশ বলেন, আমি এই কাজই খুশি। আমি অক্লান্ত পরিশ্রম করব এবং আমার পরিবারের কাউকে কিছু চাইতে হবে না। এই কাজটিই আমার জন্য যথেষ্ট। এ কাজ করেই এখন আমি পরিবারের মৌলিক চাহিদাগুলো মেটাতে পারছি।

শাভিশর প্রত্যাশা শিগগিরি শান্ত হবে গাজার পরিস্থিতি। বাস্তুচ্যুত মানুষ আবারও ফিরতে পারবেন তাদের ঘরে। স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সেই প্রচেষ্টা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সহায়তাও চেয়েছেন তারা।