স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদ নতুন কিছু নয়। বিশ্বের সব দেশেই প্রতি মিনিটেই এমন বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটছে। কিন্তু কিছু বিচ্ছেদের ঘটনা এতোটাই তোলপাড় সৃষ্টি করে যে, খবরের শিরোনামে চলে আসে। আবার তারকা ব্যক্তিদের বিচ্ছেদও সব সময় খবরের বিষয়। তবে এবার একটি বিচ্ছেদ শিরোনাম হলো ভিন্ন কারণে।
চলন্ত ট্রেনের মধ্যেই বিচ্ছেদ ঘটালেন এক স্বামী। ট্রেনের মধ্যেই স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়ে পালালেন স্বামী। গত ২৯ এপ্রিল ভারতের জাহাংসি জংশনের এই ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকলেন শত শত যাত্রী। ঘটনার চমকে যাত্রীরা নির্বাক হয়ে পড়েন, তারা ভাবতেও পারেননি এমন এক ঘটনা সাক্ষী হতে হবে তাদের।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম খবর এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২৮ বছর বয়সি মোহাম্মাদ আরশাদ তার ২৬ বছর বয়সি স্ত্রী আফসানাকে নিয়ে ট্রেনে ভ্রমণ করার সময় তালাকের এ ঘটনা ঘটে। পেশায় কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার আরশাদের চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি বিয়ে হয়েছিল আফসানার সঙ্গে।
বিয়ের পর দুজনে ভুপালে থাকতেন। এক সপ্তাহ আগে কানপুরের পুখরায়ানে আরশাদের পৈতৃক বাড়িতে বেড়াতে যান দুজন। আর সেখানে গিয়েই চমকে যান আফসানা। জানতে পারেন আরশাদের আরও এক স্ত্রী রয়েছে। এর প্রতিবাদ করলে আরশাদ ও তার মা আফসানার কাছে যৌতুকের দাবি করতে থাকে।
অভিযোগ, মারধরও করা হয় আফসানাকে। এরপর স্ত্রী আফসানাকে নিয়ে ভুপালে ফিরছিলেন আরশাদ। ঝাঁসি স্টেশনে ট্রেন ঢোকার মুখে স্ত্রীকে তিন তালাক দেন আরশাদ। এরপরই চলন্ত ট্রেন থেকে নেমে যান। স্টেশনে প্রবেশের আগে ট্রেনের গতি কমে আসতেই লাফিয়ে পড়ে পালিয়ে যান আরশাদ।
স্ত্রী আফসানাকে চলন্ত ট্রেনের তিন তালাক দেয়ার আগে মারধরও করেন আরশাদ। ট্রেন ঝাঁসিতে থামতেই জিআরপিকে সব ঘটনা খুলে বলেন আফসানা। এরপরই তাকে ফেরত পাঠানো হয় আরশাদের বাবা বাড়িতে। ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আরশাদের খোঁজে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
গোটা ঘটনার কথা উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকেও জানিয়েছেন আফসানা। স্বামীর কড়া শাস্তির দাবি করেছেন তিনি। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আফসানার অভিযোগের ভিত্তিতে তার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলা থেকে রেহাই পাইনি তার বাবা-মাও।